আগস্ট ২, ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
অফিস কিংবা বাসা নয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশের একটি চায়ের দোকানে প্রকাশ্যে অরক্ষিত অবস্থায় এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র বা বাংলা দ্বিতীয় পত্র মূল্যায়নের ঘটনা ঘটেছে। খাতা মূল্যায়নে ওই শিক্ষকের সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন তার কয়েকজন বন্ধুও। খবর পেয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে ওই পরীক্ষকের কাছ থেকে চারশো খাতা জব্দ করেছেন।
শনিবার রাতে ঘটা এই নজিরবিহীন ঘটনায় শিক্ষা বোর্ড অভ্যন্তর ও পরীক্ষকদের মধ্যে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত পরীক্ষক ইকবাল হোসেন সোহান সিলেট মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুল হাবিব জানান, প্রকাশ্যে অরক্ষিত অবস্থায় খাতা দেখার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা থানায় আসেন এবং বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
ঘটনার স্থান ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় গেটের পাশের ফজলুল হকের চায়ের দোকানে বসে খাতা দেখছিলেন ইকবাল হোসেন সোহান। সাথে ছিলেন তার কয়েকজন বন্ধু, যারা শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী। দোকান মালিক জানান, আগের দিন শুক্রবার রাতেও তারা একইভাবে সেখানে বসে খাতা মূল্যায়ন করেছিলেন।
তথ্য পেয়ে রাত সাড়ে এগারোটার দিকে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিনের নেতৃত্বে তিন কর্মকর্তা সেখানে ঝটিকা অভিযান চালান। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে পুলিশ ডেকে খাতাগুলো জব্দ করা হয়। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, খাতা দেখার সময় ওই শিক্ষককে হাতেনাতে ধরা হয় এবং ঘটনা তদন্তে কলেজ পরিদর্শককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কলেজ প্রধানের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ চিঠি পাঠানো হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন