রুমিনা খাতুন
জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০২:২২ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় উদ্বেগের নাম ‘ডলার সংকট’। বৈদেশিক মুদ্রার এই তীব্র ঘাটতির ফলে দেশের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ব্যাংকগুলো সময়মতো এলসি (Letter of Credit) খুলতে না পারায় এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন এবং সাধারণ ভোক্তার নিত্যপণ্যের দামের ওপর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এক সময়ের ৪৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ বর্তমানে ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। রিজার্ভের এই ক্ষয় রোধ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার সরবরাহে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
গত এক বছরে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ। ফলে আমদানিকারকদের আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা সরাসরি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে।
ডলার সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকে। কাঁচামাল, সুতা ও কেমিক্যাল আমদানিতে জটিলতার কারণে অনেক কারখানায় উৎপাদন ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। শুধু পোশাক খাতই নয়, ওষুধ ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পেও কাঁচামাল আমদানিতে বিলম্ব হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় গড়ে ১৫-২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
রপ্তানিকারকরা সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় আন্তর্জাতিক বাজারে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, আমদানিকৃত নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে উঠেছে। চাল, তেল, ডাল ও চিনির মতো প্রতিটি পণ্য এখন সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস, প্রবাসী আয়ের আনুষ্ঠানিক প্রবাহে ধীরগতি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতা এই সংকটের মূল কারণ। বাংলাদেশ ব্যাংক পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিবিধ উদ্যোগের কথা জানালেও ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা মনে করছেন, ডলার সংকট নিরসনে দ্রুত, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা জরুরি। অন্যথায় দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।