ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। মূলত দুর্বল মার্কিন ডলার এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এবং জেনেভায় শুরু হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা বড় ভূমিকা রেখেছে।
এসব বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ছেড়ে নিরাপদ সম্পদের দিকে ধাবিত করছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন।বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী গ্রিনিচ মান সময় ০৬টা ৩৯ মিনিট পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১৯৫ দশমিক ৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম সামান্য কমে ৫ হাজার ২১৩ দশমিক ৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন ডলারের মান কমে যাওয়া অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য স্বর্ণ কেনাকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী করে তুলেছে যা বিশ্ববাজারে চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করেছে।বাজার কৌশলবিদদের মতে নতুন মার্কিন শুল্কনীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের সতর্কাবস্থা বিরাজ করছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন যে নতুন আরোপিত শুল্কের হার কিছু দেশের জন্য ১৫ শতাংশ বা তার বেশি হতে পারে।
এই ঘোষণা বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর পাশাপাশি জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন দফার পারমাণবিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে যা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই আলোচনার ফলাফল কী হয় সেদিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। রুপা ও প্লাটিনামের দরবৃদ্ধি আবারও গতি পেয়েছে। ডয়েচে ব্যাংকের এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রতি আউন্স রুপার দাম ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে স্পট সিলভারের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৯ দশমিক ৪৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। অন্যদিকে প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩০৫ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম সামান্য কমে ১ হাজার ৭৯৩ দশমিক ৮৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ নীতিমালার দিকেও বিনিয়োগকারীরা সতর্ক নজর রাখছেন। বাজারে ধারণা করা হচ্ছে যে চলতি বছরে ফেডারেল রিজার্ভ তিন দফায় সুদহার কমাতে পারে। আজ প্রকাশিত হতে যাওয়া সাপ্তাহিক বেকারত্ব ভাতার আবেদন সংক্রান্ত তথ্য থেকে ফেডের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। সব মিলিয়ে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ডলারের ওঠানামা এবং শুল্ক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে স্বর্ণের বাজারে আপাতত অস্থিরতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন