রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ৭, ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম

জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

বিশ্ববাজারে কমছে তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় পতন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের শেয়ারবাজারগুলোতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

বুধবার (৬ মে) শান্তি আলোচনার আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক পর্যায়ে ১০ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সেই পতনের গতি কিছুটা কমলেও দিনের শুরুতে তেলের দাম আরও প্রায় ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। 

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত সরাসরি জ্বালানি তেলের বাজারে প্রভাব ফেলেছে।ইউরোপের শেয়ারবাজারে আগের দিনের বড় উত্থানের পর বৃহস্পতিবার সূচক কিছুটা নিম্নমুখী ছিল। তবে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। 

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হওয়ার আশায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে প্রাথমিক উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল, বৃহস্পতিবার তা কিছুটা স্তিমিত হতে দেখা গেছে।সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েলথ ক্লাব’-এর প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুজানা স্ট্রিটার আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত শেষ হওয়ার আশায় বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছিল। তবে বিনিয়োগকারীরা এখন বুঝতে পারছেন যে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছাতে আরও অনেক আইনি ও নীতিনির্ধারণী বাধা অতিক্রম করতে হতে পারে।

বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। সুজানা স্ট্রিটার উল্লেখ করেন, যদিও জানা যাচ্ছে যে যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে ইরান, তবুও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।

বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় স্বাভাবিকভাবে তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে। গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তজনা তেলের দামকে আকাশচুম্বী করে তুলেছিল। তবে সাম্প্রতিক এই শান্তি প্রক্রিয়ার উদ্যোগ বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে। শুক্রবারের বাজার পরিস্থিতি এবং শান্তি আলোচনার অগ্রগতির ওপর তেলের পরবর্তী দাম নির্ভর করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।