সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
মানুষের ভাব প্রকাশ ও পারস্পরিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হলো কথোপকথন। মানবসমাজ অনেকটাই নির্ভরশীল এই ভাষার ওপর। জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষ কথার ব্যবহার করে। তবে অসতর্কভাবে উচ্চারিত কথা অনেক সময় এমন স্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করে, যা পরবর্তী সময়ে মুছে ফেলা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে কথাবার্তায় আত্মসংযম, ভদ্রতা ও সত্যবাদিতার ওপর ইসলামে কঠোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
অন্যায় বা অপ্রয়োজনীয় কথার চেয়ে নীরবতাই উত্তম। ভালো কথামহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন ভালো কথা বলতে অথবা নীরব থাকতে। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে তিনি ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে। এই বাণী মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও সমাজজীবনের কথোপকথনের শিষ্টাচার গভীরভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়। মুখ থেকে বের হওয়া কথাকে বন্দুকে ছোড়া গুলির সাথে তুলনা করা হয়, যা একবার বেরিয়ে গেলে আর ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখার ক্ষেত্রেও একই নীতি কার্যকর।
প্রতিটি মানুষের মনে রাখা প্রয়োজন যে তার উচ্চারিত শব্দের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। লিখিত বা মৌখিক—যেভাবেই বক্তব্য প্রকাশ পাক না কেন, তার দায় বক্তার নিজের। ভুল কথা বলে ফেললে সাথে সাথেই ক্ষমা চেয়ে নেওয়া উচিত। সুন্দর ও মার্জিতভাবে কথা বলার দক্ষতা যেকোনো মানুষকে সমাজে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শিষ্টাচার প্রদর্শন অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা থাকে। তাদের অসম্মান করা বা অবহেলা করা অসৌজন্যমূলক আচরণের শামিল। তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা ও তাদের সাথে নিচু স্বরে কথা বলা ভদ্রতার পরিচয় বহন করে।
কথোপকথনে গলার স্বর নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। অহেতুক চিৎকার বা উচ্চস্বরে কথা বলা অন্যের বিরক্তির কারণ হয়। পবিত্র কোরআনের সুরা লুকমানের ১৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, চলাফেরায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করো এবং কণ্ঠস্বর নিচু করো; নিশ্চয়ই সব শব্দের মধ্যে গাধার শব্দই সবচেয়ে অপ্রীতিকর।
কথা বলার আগে নিজের বক্তব্য যাচাই করার নির্দেশ রয়েছে। কেউ কটু কথা বললেও তার জবাবে খারাপ আচরণ না করাই একজন প্রকৃত বিশ্বাসীর বৈশিষ্ট্য। সুরা আল-ফুরকানের ৬৩ নম্বর আয়াতে অজ্ঞদের আক্রমণের জবাবে শান্তির কথা বলে এড়িয়ে যাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কোনো কথা বলার আগে তা কল্যাণকর ও প্রয়োজনীয় কি না—তা ভেবে দেখা আবশ্যক।
বিশেষ করে রাগের মুহূর্তে জিহ্বাকে সংযত রাখা সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। রাগ কখনো সমস্যার সমাধান আনে না, বরং নীরবতা অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা করে। অপ্রয়োজনে শপথ করা বা আল্লাহর নাম ব্যবহারের প্রবণতাও পরিহার করতে হবে। সুরা আত-তাওবার ১১৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ মুমিনদের সত্যবাদীদের সাথে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) সত্যবাদিতাকে জান্নাতের পথ এবং মিথ্যাকে জাহান্নামের পথ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। একটি চিন্তা থেকে কথার জন্ম হয়, যা অভ্যাসে রূপ নিয়ে মানুষের চরিত্র নির্ধারণ করে। তাই রাগের মুহূর্তে একবার ধৈর্য ধরতে পারলে পরবর্তী সময়ে শত মুহূর্তের অনুশোচনা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন