সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত জেলা মৌলভীবাজারকে আনুষ্ঠানিক পর্যটন জেলা ঘোষণার দেড় যুগ পার হলেও বাস্তবায়িত হয়নি কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন। বেসরকারিভাবে হোটেল ও রিসোর্ট গড়ে উঠলেও সরকারি বিনিয়োগের অভাবে বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
উদ্যোগের অভাব থমকে দিয়েছে সম্ভাবনাকে। প্রাকৃতিক রূপের আধার মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলায় কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক মিলিয়ে রয়েছে প্রায় শতাধিক পর্যটন কেন্দ্র। এছাড়া সুবিশাল চা বাগান, পাহাড় এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা পর্যটকদের টানে। গত এক দশকে ব্যক্তি উদ্যোগে আধুনিক রিসোর্ট গড়ে উঠলেও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি। ২০০৮ সালে সরকার মৌলভীবাজারকে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটন জেলা হিসেবে ঘোষণা করে। দীর্ঘ ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও কয়েকটি নির্দিষ্ট কেন্দ্র বাদে সিংহভাগ দর্শনীয় স্থানে সরকারি নজরদারি পড়েনি।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যটনের প্রসারে পরিকল্পিত কোনো রাষ্ট্রীয় মাস্টারপ্ল্যান কার্যকর হয়নি। ফলে পর্যটন মৌসুম বাদে বছরের সিংহভাগ সময় পর্যটক সংকট দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি করেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার নাজুক অবস্থা পর্যটকদের দুর্ভোগের অন্যতম প্রধান কারণ। পর্যটন এলাকাগুলোর সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত বেহাল এবং সেখানে যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত বা নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন নেই। পর্যটকদের জন্য সরাসরি বিমান চলাচলের ব্যবস্থা চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটের ট্রেনের টিকিটের বরাদ্দ বাড়ানো এবং ভ্রমণের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের অভিযোগ, জেলা সদর ও শ্রীমঙ্গল ছাড়া অন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোর আশপাশে মানসম্মত খাবারের সুযোগ প্রায় নেই। বর্তমানে মৌলভীবাজারের পর্যটনকে ঘিরে প্রায় দশ থেকে বারো হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। খাতটি পরিকল্পিতভাবে বিকশিত হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পেত।
পর্যটন খাতের সম্প্রসারণে সরকারি উদ্যোগে আধুনিক জাদুঘর ও নতুন বিনোদন স্পট নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার নেতারা জানান, কেবল ব্যক্তি উদ্যোগে রিসোর্ট বাড়িয়ে পর্যটন টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। অনুন্নত অবকাঠামো এবং বিদেশি পর্যটকদের জন্য ন্যূনতম আন্তর্জাতিক সেবার ঘাটতি কাটিয়ে না উঠলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করা সম্ভব হবে না।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৌলভীবাজারে নতুন জাদুঘর ও শিশুপার্ক স্থাপনসহ বেশ কয়েকটি অবকাঠামোগত প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তবে প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে। যতটুকু তহবিল পাওয়া যাচ্ছে, তার ভিত্তিতেই স্থানীয় পর্যটনের সংস্কারকাজ চালানো হচ্ছে বলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন