সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে নির্ধারিত সরকারি ভর্তুকির প্রায় ৪৫ শতাংশ অর্থ প্রথম তিন মাসেই শেষ হয়ে গেছে।
বাজেটে দুই খাতের জন্য মোট ৪২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও প্রথম তিন মাসেই প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা ছাড় করতে হয়েছে।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সরকারের এই ভর্তুকি ব্যয়ে তীব্র চাপ তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয় গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আগস্টের বিদ্যুৎ ভর্তুকি হিসেবে চার হাজার ৯৫২ কোটি টাকা এবং সেপ্টেম্বরের এলএনজি আমদানি ভর্তুকি বাবদ তিন হাজার কোটি টাকা ছাড় করেছে। এই দফায় দুই খাতে ছাড় করা মোট সাত হাজার ৯৫২ কোটি টাকা স্বাভাবিক মাসিক সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের চেয়ে প্রায় ১২৭ শতাংশ বেশি। এর আগে জুলাই মাসের বিদ্যুৎ ভর্তুকি এবং জুলাই ও আগস্টের এলএনজি ভর্তুকি হিসেবে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ছাড় করা হয়েছিল।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, জাতীয় বাজেটে পুরো বছরের বিদ্যুৎ ভর্তুকির জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে, যা গড়ে প্রতি মাসে তিন হাজার কোটি টাকা। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ প্রতি মাসেই প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা করে বরাদ্দ দাবি করছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত প্রশমিত হবে এমন পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে পুরো অর্থবছরে এলএনজি ভর্তুকির জন্য ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় চলতি অর্থবছরে শুধু এলএনজি খাতেই ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে প্রথম তিন মাসেই এই খাতে ছাড়ের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা ছুঁয়েছে।
একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী বিদ্যুৎ খাতেও ভর্তুকির মোট চাহিদা ৫০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে, যেখানে গত অর্থবছরে এ খাতে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছিল ৪৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক সরবরাহ ভেঙে পড়ায় দেশকে খোলা স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মুখে সরবরাহকারী কাতার চুক্তিগত শর্তে `ফোর্স ম্যাজিউর` জারি করায় দীর্ঘমেয়াদি চালান বিঘ্নিত হয়। ফলে চলতি মাসের মাঝামাঝিতে স্পট মার্কেট থেকে তরলীকৃত গ্যাস কিনতে বাংলাদেশকে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটের (এমএমবিটিইউ) জন্য প্রায় ৩০ ডলার গুনতে হয়েছে, যা সংঘাত শুরুর আগের ১১ থেকে ১২ ডলারের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।
পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে নতুন করে কোনো ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই। অর্থ মন্ত্রণালয় এই ব্যয় সমন্বয় করতে পূর্বের ঋণ সমন্বয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফর্মুলা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।
এদিকে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে অভ্যন্তরীণ বাজারে সব ধরনের জ্বালানির দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন