বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
গ্রামীণ মৃৎশিল্পে আধুনিকায়ন

আধুনিক প্রযুক্তিতে বদলে যাচ্ছে সাতক্ষীরার মৃৎশিল্প

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম

আধুনিক প্রযুক্তিতে বদলে যাচ্ছে সাতক্ষীরার মৃৎশিল্প

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার প্রত্যন্ত মাঝিহারা গ্রামে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের চিত্র। কারখানাটিতে এখন নকশা করা থালা, বাটি, কাপ-পিরিচ, মগ, ফুলদানি ও নান্দনিক ফুলের টব তৈরি হচ্ছে। উৎপাদিত এসব পণ্যের ফিনিশিং ও রঙ এমন নিখুঁত যে প্রথম দেখায় বোঝার উপায় থাকে না এগুলো মাটির তৈরি। একসময় পণ্যের কম দামসহ নানা প্রতিকূলতায় যারা পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই আবার এই মৃৎশিল্পে ফিরতে শুরু করেছেন।

আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বদলে দিয়েছে উৎপাদনের সার্বিক প্রক্রিয়া। কারখানায় পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ঘূর্ণায়মান জিগার মেশিন। মাটি সংগ্রহ করে প্রথমে তা মেশিনে ছেঁকে ছোট ছোট দলায় রূপান্তর করা হয়। এরপর ছাঁচে বসিয়ে জিগার মেশিনে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় নির্দিষ্ট ও নিখুঁত আকৃতি। শুকানোর পর চলে রঙের প্রলেপ দেওয়ার কাজ এবং সবশেষে আধুনিক উন্নত চুল্লিতে পোড়ানো হয়। কারিগরদের মতে, আগে খোলামেলাভাবে পোড়ানোর ফলে চারপাশে ধোঁয়া ছড়িয়ে গাছপালার পরিবেশগত ক্ষতি হতো, এখন নিয়ন্ত্রিত চুল্লির কারণে সেই দূষণ বন্ধ হয়েছে এবং কাজের গতি ও ফিনিশিং দুটোই উন্নত হয়েছে। কারখানার ব্যবস্থাপক জানান, উৎপাদিত এসব পণ্যের গুণগত মান ভালো হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে যশোর, কুমিল্লা, ঢাকার ‍‍`বাংলা মাটি‍‍` প্রতিষ্ঠানসহ স্থানীয় ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা পাইকারি দরে এসব মাটির তৈজসপত্র সংগ্রহ করছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এসব পণ্য ব্যবসায়ীদের হাত ধরে আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন প্রচেষ্টার পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাতক্ষীরা, খুলনা ও যশোরের একাংশের প্রায় ছয়শত মৃৎশিল্পীকে সংগঠিত করে আধুনিক পদ্ধতিতে মাটির পণ্য তৈরির বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এতে শুধু সনাতন পাল সম্প্রদায় নয়, অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষেরও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে।

ঐতিহ্যবাহী এই কুটির শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সব ধরনের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।