রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

এক নজরে বাংলাদেশের বিগত ৫৪টি বাজেট

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১১, ২০২৬, ১০:২৪ এএম

এক নজরে বাংলাদেশের বিগত ৫৪টি বাজেট

ছবি-দিনাজপুর টিভি

আজ বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে পেশ করছেন দেশের ৫৫তম বাজেট। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল এই বাজেটের আকার দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৭২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত দেশে ৫৪টি বাজেট পেশ হয়েছে। আজ অর্থমন্ত্রীর এই বাজেট পেশের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে দীর্ঘ পথচলার আরেকটি বড় মাইলফলক।

১৯৭২ সালে তাজউদ্দিন আহমেদ যখন প্রথম বাজেট পেশ করেন, তখন এর আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। সেসময় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিমাণ ছিল ৫০১ কোটি টাকা। সময়ের বিবর্তনে সেই চিত্র এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। স্বাধীনতার পর থেকে অর্থনীতির চাকা ঘুরেছে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে।

৫৪ বছরের বাজেট যাত্রায় প্রতিটি বাজেটই কোনো না কোনো সংকটের প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছে। ১৯৭৫ সালে ড. আজিজুর রহমান মল্লিক যখন বাজেট দিয়েছিলেন, তখন এর আকার ছিল ১ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা। নব্বইয়ের দশকে এম সাইফুর রহমান ও এসএএমএস কিবরিয়ার সময় বাজেটের আকার বাড়তে থাকে। সবশেষ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ গত বছর ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছিলেন। আজ সেই ধারা ছাড়িয়ে ৯ লাখ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা পার করা হচ্ছে।

আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকবে—যা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তা ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।কোটি টাকার এই বিশাল অংকের বাজেট বাস্তবায়ন করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য। অতীতের ৫৪টি বাজেট থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারের বাজেট কতটা জনকল্যাণে কাজে লাগে, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো দেশ। ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীলতায় ফিরে আসাই এখন সাধারণ মানুষের মূল আকাঙ্ক্ষা।