জুলাই ১, ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে নতুন এক ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলো সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছর। এই পুরো অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বৈধ চ্যানেলে বাংলাদেশে এসেছে। আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইতিবাচক ও সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত আশাবাজক তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত মাসভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরটিতে প্রবাসীরা মোট ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দেশে বৈধ পথে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৩ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, যা শতকরা হিসাবে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে নগদ প্রণোদনা প্রদান এবং ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত টাকা পাঠানোর সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবাসীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করছেন।তবে পুরো অর্থবছরের এই বিশাল অর্জনের মধ্যেও শেষ মাস অর্থাৎ জুনে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা মন্থর গতি লক্ষ্য করা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাথমিক হিসাব মতে, জুনে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ঙ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মাসিক রেমিট্যান্স।
এর প্রধান কারণ হিসেবে ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে পবিত্র ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা তাঁদের পরিবার-পরিজনের কাছে অতিরিক্ত অর্থ পাঠিয়েছিলেন। ঈদ-পরবর্তী সময়ে সেই বাড়তি চাপ স্বাভাবিকভাবেই কমে যাওয়ায় জুন মাসে রেমিট্যান্সে কিছুটা নিম্নগতি দেখা দিয়েছে। তা ছাড়া ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের চূড়ান্ত তথ্য এই প্রাথমিক হিসাবে যোগ না হওয়ায় মূল অঙ্কটি আরও কিছুটা বাড়তে পারে।
এই বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের যৌথ ইতিবাচক ধারার কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা সঞ্চয়ও বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে বর্তমানে ৩৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের বিপিএম-৬ আন্তর্জাতিক পদ্ধতি অনুসরণ করে হিসাবকৃত নিট ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এই মজবুত আর্থিক ভিত্তি দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদেরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন