ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ১০:০২ এএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে ‘ফ্যাসিবাদের চিহ্নমুক্ত’ করার লক্ষে শেখ পরিবারের নামে থাকা বিভিন্ন হল ও স্থাপনার নাম পরিবর্তনের দাবি জোরালো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন।
শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শেখ পরিবারের সব নাম মুছে ফেলে শহীদ ও বিপ্লবীদের নামে নামকরণের দাবি জানান।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’-এর নাম পরিবর্তন করে সম্প্রতি নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ‘শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হল’ এবং ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘ফেলানী হল’ করার দাবি তোলা হয়।
ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, “শেখ হাসিনা ও তার পিতার স্বৈরাচারী শাসনের কোনো আইকন বা চিহ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখা যাবে না। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এসব নাম অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।এদিন ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। এতে জুলাই গণহত্যায় উসকানিদাতা বা সমর্থনকারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
ডাকসুর সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, প্রশাসন এখন পর্যন্ত এসব দাবিতে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি বলেই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।তবে ‘বঙ্গমাতা হল’-এর নাম পরিবর্তন নিয়ে হল সংসদের ভেতর কিছুটা মতভেদ দেখা দিয়েছে। হলের ভিপি তাসনিম আক্তার নাবিলা অভিযোগ করেছেন, হল সংসদের সঙ্গে আলোচনা না করেই ডাকসু এককভাবে ‘ফেলানী হল’ নামটির প্রস্তাব করেছে।
হলের সাধারণ সম্পাদক মিফতাহুল জান্নাত রিফাত জানান, শিক্ষার্থীদের ভোটে বীর প্রতীক ‘ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম’ নামটি সর্বোচ্চ সমর্থন পেয়েছে। এ বিষয়ে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, “বিতর্কিত নাম পরিবর্তনই মূল লক্ষ্য। চূড়ান্ত নাম কী হবে, তা শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।” বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সিন্ডিকেট সভায় এসব দাবির বিষয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন