সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে নিয়ে এআই প্রযুক্তিতে অপপ্রচার তদন্তে নেমেছে পুলিশ

মোঃ রাহাত হোসেন

এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০২:০১ পিএম

হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে নিয়ে এআই প্রযুক্তিতে অপপ্রচার তদন্তে নেমেছে পুলিশ

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে জড়িয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও ভুয়া চ্যাটিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নিজের সামাজিক মর্যাদা রক্ষা এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে চালানো এই অপপ্রচারের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।ভুক্তভোগী সুজন ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং তিনি ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

 থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বেশ কিছুদিন আগে তার বিভাগের জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রেমঘটিত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। তখন তিনি জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি শান্ত করেছিলেন। 

তবে ওই ঘটনার পর থেকে একটি পক্ষ তার ওপর চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর কিছুদিন পর অর্থনীতি ক্লাবের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভাগে দুটি গ্রুপ তৈরি হয়। সুজন সেখানে নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ায় একটি পক্ষ তার ওপর আরও বিরাগভাজন হয় এবং অনলাইনে পরিকল্পিত অপপ্রচার শুরু করে।সুজন ইসলামের দাবি, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে আধুনিক এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। তার ছবি ও নাম ব্যবহার করে বানোয়াট ও অশ্লীল চ্যাটিংয়ের স্ক্রিনশট তৈরি করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। 

এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে তিলে তিলে গড়া তার সামাজিক সুনাম ও মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির প্রতিকার চেয়ে তিনি দ্রুত কোতোয়ালি থানায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানান।এই সাইবার হেনস্তার বিষয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে একটি অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। 

পুলিশ বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এই ভুয়া কনটেন্ট তৈরির উৎস এবং এর পেছনে কারা কলকাঠি নাড়ছে তা শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে করা হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত সাইবার অপরাধ। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর অপপ্রচারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর এই ঘটনাটি বর্তমানে ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুনাম নষ্ট করা একটি ভয়াবহ অপরাধ, যা কঠোর হাতে দমন করা প্রয়োজন। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।