এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী তাদের জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলো পরীক্ষার সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। প্রথা অনুযায়ী প্রথম দিন বাংলা প্রথম পত্র বিষয়ের মাধ্যমে এই পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক পর্দা উঠবে।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর দেওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী রয়েছে ১৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ৩ লাখ এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।
তবে গত বছরের তুলনায় এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭১ হাজার ৬২৬ জন কমেছে, যা সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সারাদেশে মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করতে হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যতীত প্রতিটি বিষয়ে প্রথমে বহুনির্বাচনী বা এমসিকিউ এবং পরে সৃজনশীল অংশের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এই দুই অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। বহুনির্বাচনী অংশের জন্য ৩০ মিনিট এবং সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমে রোল, রেজিস্ট্রেশন ও বিষয় কোড সঠিকভাবে পূরণ করার ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।বোর্ডের নির্দেশনায় আরও জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে শুধুমাত্র সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস কেন্দ্রে আনা যাবে না।
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বহুনির্বাচনী, সৃজনশীল এবং ব্যবহারিক—এই তিনটি অংশে আলাদাভাবে পাস করতে হবে। কোনো একটি অংশে পাস করতে ব্যর্থ হলে ওই শিক্ষার্থী পুরো বিষয়ে অকৃতকার্য হিসেবে গণ্য হবে। লিখিত পরীক্ষা আগামী ২০ মে শেষ হওয়ার পর ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রশ্নপত্র ফাঁস বা গুজব রোধে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন