সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। মূল ফলাফলে অনুত্তীর্ণ হওয়া চার হাজার পাঁচ শ পঁচাশি জন শিক্ষার্থী নতুন করে পাস করেছেন। একই সঙ্গে সংশোধিত এই ফলাফলে নতুন করে জিপিএ-পাঁচ অর্জন করেছেন তিন হাজার উনআশি জন শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় দেশের এগারোটি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে একযোগে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ বোর্ডের পোর্টাল ছাড়াও নির্ধারিত কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফল সংগ্রহ করতে পারছেন। পাশাপাশি আবেদন করার সময় প্রদান করা মুঠোফোন নম্বরে খুদে বার্তার মাধ্যমে ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, প্রচলিত নিয়মে অতীতে কেবল নম্বর যোগে কোনো ভুল রয়েছে কি না তা যাচাই করা হতো। তবে এ বছর শিক্ষার্থীদের ব্যাপক দাবির মুখে আবেদনকৃত খাতাগুলো কেবল পুনঃনিরীক্ষণ নয়, প্রথমবারের মতো সরাসরি পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে।
এবার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য দেশজুড়ে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছিল। এগারোটি শিক্ষা বোর্ডে মোট চার লাখ দুই হাজার একাভন্ন জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেন, যার বিপরীতে মোট বারো লাখ সাতাশ হাজার নয় শ ছাব্বিশটি খাতা পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আসে। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার খাতা ছিল দশ লাখ ছাপ্পান্ন হাজার চার শ পঞ্চান্নটি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতা ছিল দুই লাখ একত্রিশ হাজার চার শ একাত্তরটি। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ে আবেদন করায় আবেদনপত্রের সংখ্যা পরীক্ষার্থীর তুলনায় অনেক বেশি হয়।
বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এই বোর্ডে চুরানব্বই হাজার দুই শ ছত্রিশ জন পরীক্ষার্থীর লিখিত ও ব্যবহারিক মিলিয়ে তিন লাখ পঁয়ত্রিশ হাজারেরও বেশি খাতা পর্যালোচনার জন্য জমা পড়ে। অন্যান্য বোর্ডের মধ্যে রাজশাহীতে উনচল্লিশ হাজার, চট্টগ্রামে উনচল্লিশ হাজার, দিনাজপুরে সাঁইত্রিশ হাজার, কুমিল্লায় পঁয়ত্রিশ হাজার, যশোরে আটাশ হাজার, ময়মনসিংহে সাতাশ হাজার ছয় শ ছিয়াত্তর, সিলেটে বিশ হাজার এবং বরিশালে সতেরো হাজারের বেশি আবেদন গৃহীত হয়। এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডে চল্লিশ হাজার এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে বিশ হাজারের অধিক পরীক্ষার্থী ফল পর্যালোচনার আবেদন করেছিলেন।
গত দশ আগস্ট এসএসসি পরীক্ষার মূল ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছিল, যেখানে সার্বিক পাসের হার ছিল বাষট্টি দশমিক পঁচিশ শতাংশ। গত উনিশ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হারের এই রেকর্ডের পর সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আবেদন জানান। ফল প্রকাশের একত্রিশ দিন পর এবং আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার চব্বিশ দিনের মাথায় এই সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হলো।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন