এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১০:১৭ এএম
সারাদেশে উৎসবমুখর কিন্তু কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আজ থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষার মাধ্যমে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনের প্রথম বড় এই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে শুরু করে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এবারের পরীক্ষা আগামী ২০ মে পর্যন্ত চলবে। প্রথম দিন থেকেই কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ লাখ ১৮ হাজারেরও বেশি।
এ ছাড়াও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩ লাখের বেশি দাখিল পরীক্ষার্থী এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। সারাদেশের মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এই বিশাল শিক্ষা কার্যক্রম একযোগে পরিচালিত হচ্ছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এবারের পরীক্ষায় ছাত্রের সংখ্যা ছাত্রীদের তুলনায় কিছুটা বেশি। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। তবে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭১ হাজার ৬২৬ জন কমেছে। ঝরে পড়া রোধ এবং নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কিছু কড়াকড়ির কারণে এই সংখ্যাগত পরিবর্তন হয়েছে বলে ধারণা করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
পরীক্ষার কাঠামো সম্পর্কে বোর্ড জানিয়েছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বাদে প্রতিটি বিষয়েই প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) এবং পরে সৃজনশীল বা রচনামূলক অংশের পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই দুই অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। বহুনির্বাচনী অংশের জন্য বরাদ্দ সময় ৩০ মিনিট এবং সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ তত্ত্বীয় পরীক্ষা ২০ মে শেষ হওয়ার পর আগামী ৭ জুন থেকে ১৪ জুনের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এবং নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বরাবরের মতো এবারও বাড়তি ২০ মিনিট সময় বরাদ্দের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সারাদেশের শিক্ষা প্রশাসন ও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন্দ্রগুলোর আশেপাশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করছে। আগামী এক মাস দেশজুড়ে এই পরীক্ষা কেন্দ্রিক ব্যস্ততা বজায় থাকবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন