রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কীভাবে মৃত্যু হলো অভিনেতা রাহুলের? তালসারিতে যা ঘটেছিল

বিনোদন ডেস্ক

মার্চ ৩০, ২০২৬, ১১:২৭ এএম

কীভাবে মৃত্যু হলো অভিনেতা রাহুলের? তালসারিতে যা ঘটেছিল

প্রয়াত অভিনেতা রাহুল

পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় গত ২৯ মার্চ রোববার দিঘার নিকটবর্তী ওড়িশার তালসারি সমুদ্রসৈকতে পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেছেন। ৪৩ বছর বয়সী এই অভিনেতার আকস্মিক প্রয়াণে টলিউডসহ পুরো বাংলা বিনোদন জগতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, এদিন তিনি ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ নামক একটি ধারাবাহিকের শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন। 

শুটিংয়ের বিরতিতে বা কাজের ফাঁকে তালসারির সমুদ্রে নামলে হঠাৎ তিনি তলিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দা ও শুটিং ইউনিটের সদস্যরা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত দিঘা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। শুটিং ইউনিটের সদস্য ও সহ-অভিনেতা ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তারা সকলে দিঘা-তালসারি এলাকায় শুটিংয়ের কাজে গিয়েছিলেন। 

দুপুরের দিকে ইউনিটের একটি বড় অংশ খেতে গেলেও রাহুল আরও কয়েকটি শট দেবেন বলে সেখানে থেকে যান। এর কিছুক্ষণ পরেই তার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর আসে। অভিনেতা রাহুল শুটিংয়ের প্রয়োজনে পানিতে নেমেছিলেন নাকি ব্যক্তিগত কারণে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া শুটিং স্পটে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, সেই প্রশ্নটিও এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বিস্তারিত তদন্তের পরেই প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে।

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা অভিনয়ের জগতে সক্রিয় ছিলেন। ২০০৮ সালে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘জ্যাকপট’, ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’, ‘ভালবাসা জিন্দাবাদ’, ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘অভিশপ্ত নাইটি’, ‘জুলফিকার’ এবং ‘আবার কাঞ্চনজঙ্ঘা’। বড় পর্দার পাশাপাশি ছোট পর্দায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত সফল। 

‘খেলা’, ‘মোহনা’, ‘তুমি আসবে বলে’, ‘দেশের মাটি’, ‘লালকুঠি’ এবং বর্তমানের ‘গীতা এলএলবি’-র মতো ধারাবাহিকে তার অভিনয় দর্শক মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি মঞ্চ এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।সহকর্মীদের কাছে রাহুল ছিলেন একজন প্রাণবন্ত ও পেশাদার শিল্পী। তার আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত টলিপাড়ার পরিচিত মুখেরা। শুটিং ফ্লোরে কয়েক ঘণ্টা আগেও যাকে সুস্থ ও স্বাভাবিক দেখা গেছে, তার এমন চলে যাওয়া কেউ মেনে নিতে পারছেন না। 

তার মৃত্যুতে কেবল একজন দক্ষ অভিনেতাকেই হারালো না, বাংলা সিনেমা ও টেলিভিশন জগত একজন নিবেদিতপ্রাণ শিল্পীকে হারালো। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তার এই বিদায় বাংলা বিনোদন জগতের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভিনেতার মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে। তার অকাল প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন অভিনেতা, পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীরা।