সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন দেশে যারা গণহত্যা চালিয়েছে এবং মানুষের বুকে গুলি চালিয়েছে তাদের প্রত্যেকের বিচার নিশ্চিত করা হবে। শনিবার রাজধানী ঢাকার ধোলাইখালের সাদেক হোসেন খোকা মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চালু আছে এবং এটি চালু থাকবে। প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করে প্রত্যেক খুনির বিচার নিশ্চিত করা হবে।
বিচারের কোনো বিকল্প নেই। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১৭ বছরে যারা বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনা আবশ্যক। তিনি অভিযোগ করেন, যে সরকার অতীতে জনগণের ভোট ছাড়া দেশ পরিচালনা করেছে এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, তারা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি লজ্জাজনক অধ্যায় রচনা করেছে। স্বাধীনতার পর এ ভূখণ্ডের মানুষ সবচেয়ে বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে মন্তব্য করে তিনি জানান, সেই বাহিনী ও ফ্যাসিবাদী শক্তিকে বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনোদিন রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। পতিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হয়ে নিয়মিত ভার্চুয়াল সভা করছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা সভা করে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং দাবি করছে আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন। সরকার চায় তিনি দেশে ফিরে এসে সরাসরি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ান এবং আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন।
শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ভারত সরকার এখনো এই আনুষ্ঠানিক বার্তার কোনো জবাব দেয়নি। মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা যে দেশে অবস্থান করছেন, সেই দেশের প্রতি তাদের অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার স্পষ্ট আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, দেশে তাদের বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং তারা চাইলে আইনানুগ আপিলের সুযোগ পাবেন।বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে যারা সরকার পতনের এক দফার ডাক দিচ্ছেন তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে দেশের জনগণকে ভাবতে হবে। বিএনপি ও আন্দোলনের সহযোগীরা রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির এসব কর্মকাণ্ড নীরবে দেখবে না। তিনি বলেন, বিএনপি দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, গণতন্ত্র সুসংহত করা এবং এমনভাবে সাংবিধানিক পরিবর্তন আনতে চায় যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচারের পুনরুত্থান না ঘটে। সরকার সংবিধান সংশোধন কমিটিতে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানালেও অনেকে সেখানে না গিয়ে উত্তর ও দক্ষিণে লংমার্চ করেছেন এবং সামনে পূর্ব ও পশ্চিমেও কর্মসূচি করার কথা বলছেন।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতায় অনেক প্রতিবেশী রাষ্ট্রে তেলের দাম বাংলাদেশের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি বেড়েছে। জনগণের কষ্টের কথা ভেবে বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের পরামর্শে সরকার এক মাস পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। পরবর্তীতে সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার রোধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করার প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারে কিছুটা দাম বাড়াতে হয়েছে এবং জনগণের এই সাময়িক দুর্ভোগের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশেও অবিলম্বে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন