জুন ১৫, ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
১৯৬৭ সালে পরিচালক এহতেশাম তার নতুন সিনেমা চকোরীর জন্য খুঁজছিলেন এক নতুন মুখ। কিন্তু সেই কিশোরীর বাবার দ্বিধা ছিল স্পষ্ট—লাজুক মেয়ের অভিনয়ের কথা শুনে বাবা হেসেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন। সেই লাজুক কিশোরীটিই যে একদিন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অপ্রতিরোধ্য সম্রাজ্ঞী হয়ে উঠবেন, তা হয়তো সেদিন কেউ ভাবেনি। তিনি আফরোজা সুলতানা রত্না, যাকে আজ পুরো দেশ চেনে শাবানা নামে।
১৯৫২ সালের ১৫ জুন চট্টগ্রামের রাউজানে জন্ম নেওয়া রত্নার রূপালি জগতে পথচলা শুরু মাত্র ৯ বছর বয়সে।১৯৬২ সালে নতুন সুর সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর নৃত্যশিল্পী কিংবা সহ-অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করেছেন বেশ কিছু ছবিতে। তবে ভাগ্য বদলে যায় চকোরীর মাধ্যমে।
জহুরির চোখ যেন ঠিকই চিনেছিল রত্নাকে। নাদিমের বিপরীতে সেই সিনেমা ব্যবসা সফল হওয়ার পর শাবানাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।শাবানা মানেই ছিল প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ তিন দশকের ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন ২৯৯টি চলচ্চিত্রে। এর মধ্যে নায়ক আলমগীরের সঙ্গে তার জুটি ছিল সবচেয়ে কালজয়ী। একসঙ্গে কাজ করেছেন ১৩০টি সিনেমায়। রাজ্জাক, নাদিম, ফারুক কিংবা জসীম— ঢাকাই সিনেমার সোনালী সময়ের প্রায় সব নায়কের সঙ্গেই তার রসায়ন ছিল দর্শকপ্রিয়তার তুঙ্গে।
শুধু বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, অভিনয়ের নিপুণতায় নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। ভাত দে সিনেমার নিঃস্ব নারী কিংবা ছুটির ঘণ্টার মমতাময়ী মা— প্রতিটি চরিত্রকে তিনি পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছেন। যার স্বীকৃতিস্বরূপ রেকর্ড ১০ বার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। আজীবন সম্মাননাসহ ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য দেশি-বিদেশি পুরস্কার।
পর্দার বাইরেও শাবানা ছিলেন সমান গোছানো। ১৯৭৩ সালে সরকারি কর্মকর্তা ওয়াহিদ সাদিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং গড়ে তোলেন নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা এসএস প্রোডাকশন। তবে ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ১৯৯৭ সালে সবাইকে অবাক করে দিয়ে বিদায় নেন এই গুণী অভিনেত্রী। বর্তমানে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাস জীবন কাটালেও কোটি দর্শকের হৃদয়ে আজও অম্লান এই কিংবদন্তি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন