রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
কনটেন্টে আয়ের নতুন শর্ত

ইউটিউব থেকে আয়ের শর্ত দ্বিগুণ হচ্ছে আগামী বছর

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০২:১০ পিএম

ইউটিউব থেকে আয়ের শর্ত দ্বিগুণ হচ্ছে আগামী বছর

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করে বিজ্ঞাপন থেকে অর্থ উপার্জনের পথ আরও কঠিন হতে চলেছে। নতুন কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য বিজ্ঞাপন আয়ের যোগ্যতা অর্জনের শর্ত দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে জনপ্রিয় ভিডিও মাধ্যমটি।

আয়ের পথ কঠিন করে নতুন সীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কোনো চ্যানেলে বিজ্ঞাপনের আয়ের ভাগ পেতে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম বা ওয়াইপিপির (YPP) নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে সেই যোগ্যতার শর্ত বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ বাড়বে। এতে যুক্ত হতে একজন নির্মাতার শেষ ৩৬৫ দিনে অন্তত আট হাজার ঘণ্টা কার্যকর ওয়াচ আওয়ার থাকতে হবে। পাশাপাশি শর্টস ভিডিওর ক্ষেত্রে বিগত ৯০ দিনে কমপক্ষে দুই কোটি বা বিশ মিলিয়ন ভিউ থাকা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তবে চ্যানেলে ন্যূনতম এক হাজার সাবস্ক্রাইবার থাকার আগের নিয়মটি অপরিবর্তিত থাকছে।

বিদ্যমান নিয়মে একজন নির্মাতাকে বিগত বারো মাসে চার হাজার ঘণ্টা ওয়াচ আওয়ার অথবা শেষ তিন মাসে এক কোটি শর্টস ভিউ নিশ্চিত করতে হয়। সেই সঙ্গে এক হাজার সাবস্ক্রাইবারের শর্ত থাকে। নতুন নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে চার হাজার ঘণ্টার জায়গায় প্রয়োজন হবে আট হাজার ঘণ্টা এবং এক কোটি শর্টস ভিউয়ের পরিবর্তে দুই কোটি ভিউ অর্জন করতে হবে।

এই কঠোর নীতিমালার মূল প্রভাব পড়বে মূলত নতুন নির্মাতাদের ওপর। যারা ইতোমধ্যে এই প্রোগ্রামের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে নিয়মিত আয় করছেন, তাদের ক্ষেত্রে নতুন এই যোগ্যতার শর্ত সরাসরি চাপিয়ে দেওয়া হবে না। তবে আগামীতে যারা নতুন চ্যানেল খুলে প্ল্যাটফর্মটিকে বিকল্প পেশা বা বাণিজ্যিক উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেবেন, তাদের শুরু থেকেই দীর্ঘ সময় ধরে দর্শককে ধরে রাখার পরিকল্পনা সাজাতে হবে। কেবল সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা বাড়ালেই চলবে না, প্রতিটি ভিডিও দর্শকরা কতক্ষণ দেখছেন এবং ছোট আকারের ভিডিওতে পর্যাপ্ত দর্শক আসছে কি না, সেদিকে কড়া নজর দিতে হবে। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন এই শর্ত কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে শর্ত কঠোর করার সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

শর্তের এই পরিবর্তনের ফলে নতুন ও ক্ষুদ্র চ্যানেলগুলোর পক্ষে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সময়সীমা অতিক্রম করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। ফলে অনেক নতুন নির্মাতা বিকল্প প্ল্যাটফর্মের দিকেও নিজেদের কনটেন্ট সম্প্রসারণের কৌশল নিতে পারেন।