জানুয়ারি ১, ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনেই ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে এক ঐতিহাসিক নজির গড়ল তুরস্কের জনগণ। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ইস্তাম্বুলের বিখ্যাত গালাতা ব্রিজে প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার মানুষ সমবেত হয়ে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তুরস্কের ‘হিউম্যানিটারিয়ান অ্যালায়েন্স’ এবং ‘ন্যাশনাল উইল প্ল্যাটফর্ম’-এর আয়োজনে এই বিশাল সমাবেশে ৪০০টিরও বেশি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠন অংশ নেয়।
সমাবেশের মূল প্রতিপাদ্য ও স্লোগান ছিল—‘আমরা ভয় পাব না, আমরা চুপ করে থাকব না, আমরা ফিলিস্তিনকে ভুলব না’।
অংশগ্রহণকারীরা তুরস্ক ও ফিলিস্তিনের পতাকা এবং গায়ে কেফিয়া জড়িয়ে গাজার প্রতিরোধের প্রতি সমর্থন জানান। ‘ইস্তাম্বুল থেকে গাজা, প্রতিরোধের প্রতি হাজারো শুভেচ্ছা’ এবং ‘মুক্ত ফিলিস্তিন’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয় পুরো এলাকা।
দিনটি শুরু হয় ইস্তাম্বুলের প্রধান মসজিদগুলোতে ফজরের নামাজের মাধ্যমে। আয়া সোফিয়া গ্র্যান্ড মসজিদ, সুলতানাহমেত, ফাতিহ, সুলেমানিয়ে এবং এমিনোনু ইয়েনি কামি মসজিদে নামাজ শেষে হাজার হাজার মানুষ মিছিল নিয়ে গালাতা ব্রিজের দিকে যাত্রা করেন। স্বেচ্ছাসেবকরা পথের ধারে বিক্ষোভকারীদের জন্য চা, স্যুপ এবং সিমিত (এক ধরনের রুটি) সরবরাহ করেন।সমাবেশে জনতা উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন ইলিম ইয়াইমা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বিলাল এরদোয়ান। তিনি বলেন, প্রতি বছরই এখানে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জাতি হিসেবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি আমরা আমাদের মূল্যবোধের শক্তি অনুভব করি। তিনি ফিলিস্তিন ও জেরুজালেমের স্বাধীনতার জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেন।এছাড়া মিছিলে অংশ নেন একে পার্টির ইস্তাম্বুল শাখার প্রধান আবদুল্লাহ ওজদেমির এবং ওন্ডার ইমাম হাতিপলিলে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল্লাহ সিলানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও নাগরিক নেতারা।অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন যে, ২০২৬ সালে গাজায় ন্যায়বিচার ও শান্তি ফিরে আসবে এবং ফিলিস্তিনিদের দুর্দশার অবসান ঘটবে। তারা এই বিক্ষোভকে ইস্তাম্বুল থেকে বিশ্বের কাছে ‘সংহতির একটি শক্তিশালী বার্তা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পুলিশি কড়া নিরাপত্তা থাকলেও আয়োজকরা একে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন