সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
দেশের যেসব অঞ্চলে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দল বেহেশতের টিকিট বিক্রির রাজনীতি করে নির্বাচিত হয়েছে, সেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মঙ্গলবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই অভিযোগ করেন। কবর জিয়ারত সম্পন্ন করে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রতিমন্ত্রী এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।
এ সময় শহীদ আবু সাঈদের ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে মীর শাহে আলম বলেন আবু সাঈদের অবদান শুধু ইতিহাসের অংশ নয়, এটি পুরো জাতির জন্য এক চিরন্তন অনুপ্রেরণা। তিনি আবু সাঈদের মা-বাবাকে গর্বিত অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে আবু সাঈদ এই দেশের এবং রংপুরের এক অমূল্য সম্পদ ও গণঅভ্যুত্থানের শ্রেষ্ঠ বীর। পরিবারের কল্যাণ ও স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারি সহায়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্পষ্ট নির্দেশনায় শহীদ আবু সাঈদের পিতা-মাতার জন্য স্থায়ী বাসগৃহ নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে আবু সাঈদের কবরের সার্বিক সৌন্দর্যবর্ধন ও স্মৃতি ধরে রাখতে আবু সাঈদ ফাউন্ডেশনে সরকারিভাবে এক কোটি টাকা অনুদান প্রদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তিনি। পীরগঞ্জসহ দীর্ঘদিনের অবহেলিত অঞ্চলগুলোকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সংযুক্ত করতে বর্তমান প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি জানান কে নির্বাচিত হলেন বা হলেন না সেই রাজনৈতিক বিবেচনা বাদ দিয়ে সব নাগরিকের সম-অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
সামাজিক সুরক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রীর একটি অগ্রাধিকারমূলক জাতীয় কর্মসূচি এবং দেশের কোনো যোগ্য পরিবারই এই কল্যাণমূলক উদ্যোগের বাইরে থাকবে না। ধর্মীয় প্রসঙ্গ ও আলেম সমাজের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মীর শাহে আলম অভিযোগ করেন একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধর্মের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। তারা মসজিদ এবং ইমামদের টেকসই উন্নয়নে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি দাবি করে তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় দেশের মসজিদগুলোর ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের স্থায়ী বেতনের কাঠামোর আওতায় আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পূর্ববর্তী প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের মৌলিক উন্নয়নে কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করতে পারেনি। বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্বভার গ্রহণের পর একটি ভঙ্গুর ও তীব্র সংকটপূর্ণ অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতিসহ নানা অবকাঠামোগত সমস্যা পূর্ববর্তী সময়ের সৃষ্টি উল্লেখ করে তিনি বলেন বর্তমান সরকারের বহুমুখী সংস্কার কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে চলমান রয়েছে এবং যেকোনো মূল্যায়নের জন্য প্রশাসনকে চার বছর পূর্ণ সময় দেওয়া উচিত, যার পরই কেবল সরকারের সার্বিক কার্যক্রম ও ব্যর্থতার বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন