মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ঢাকায় মনোরেল করিডোরের প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

ঢাকায় মনোরেল করিডোরের প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু

ঢাকা মহানগর অঞ্চলে এলিভেটেড বা উড়াল মনোরেল চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে আনুষ্ঠানিক প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার চুক্তি করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন (বিআরটিসি)। মূলত বিদ্যমান মেট্রোরেল ও বাস র‍্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) পরিপূরক ও ফিডার সার্ভিস হিসেবে মনোরেল চালুর সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হবে এই গবেষণায়। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ডিটিসিএ ভবনে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে ডিটিসিএর পক্ষে অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান এবং বিআরটিসি-বুয়েটের পক্ষে ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশনের পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক সচিব মোহাম্মদ মসিউর রহমান। সমীক্ষার আওতায় ঢাকা মহানগর অঞ্চলে মনোরেলভিত্তিক আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বাস্তব সম্ভাবনা এবং বিদ্যমান ও ভবিষ্যৎ মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে এর কার্যকর সমন্বয়ের সুযোগ যাচাই করা হবে। এজন্য ঢাকার সংশোধিত কৌশলগত হালনাগাদ পরিবহন পরিকল্পনায় (ইউআরএসটিপি) প্রস্তাবিত পাঁচটি মনোরেল রুটসহ মহানগরীর অন্যান্য সম্ভাব্য রুট বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হবে।

সবগুলো বিকল্প পথ যাচাই করে দুটি অগ্রাধিকারযোগ্য মনোরেল করিডোর চূড়ান্ত করতে কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হবে। সমীক্ষায় সম্ভাব্য মনোরেল রুট ও অ্যালাইনমেন্ট বিশ্লেষণ, স্টেশন ও ডিপোর উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ, যাত্রী চাহিদা প্রাক্কলন, কারিগরি ও কাঠামোগত উপযোগিতা যাচাই, পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব এবং অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন মেট্রোরেলসহ অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে মনোরেলের কার্যকর আন্তঃসংযোগের বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হবে। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণা প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় মাস।

ডিটিসিএ জানিয়েছে, রাজধানীতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, চলাচলের উচ্চ চাহিদা ও যানজটের প্রেক্ষাপটে একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে। যেসব ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সড়কের স্বল্প প্রস্থের কারণে ভারী মেট্রোরেল অবকাঠামো নির্মাণ করা প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন, সেখানে মনোরেল একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। মনোরেল উড়াল কাঠামোর ওপর চলাচল করায় বিদ্যমান সড়কের সীমিত জমি ব্যবহার করেই যোগাযোগ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এর নির্মাণ ব্যয়, কারিগরি উপযোগিতা, যাত্রী ধারণক্ষমতা, পরিচালন খরচ এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা সমীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে। সংস্থাটি আশা করছে, এই সমীক্ষার ফলাফল ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।