সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
প্রতি বছর প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে অত্যাধুনিক ডিজাইনের নতুন নতুন মডেলের স্মার্টফোন উন্মোচন করে। এসব হ্যান্ডসেটে উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি, শক্তিশালী প্রসেসর এবং আকর্ষণীয় নতুন সুবিধার সংযোজন দেখে অনেকের মধ্যেই বর্তমান ফোন বদলে ফেলার প্রবণতা তৈরি হয়। তবে বিদ্যমান মুঠোফোনটি যদি স্বাভাবিকভাবে কাজ করে, তবে প্রতি বছর বা দুই বছর পর পর বিপুল অর্থ খরচ করে ডিভাইস পরিবর্তনের কোনো বাস্তব প্রয়োজন নেই।
সঠিক পদ্ধতিতে নিয়মিত যত্ন নিলে একটি স্মার্টফোন অনেক বছর পর্যন্ত কার্যকর রাখা সম্ভব। এতে যেমন ব্যক্তিগত আর্থিক সাশ্রয় নিশ্চিত হয়, তেমনি বিপজ্জনক ইলেকট্রনিক বর্জ্য বৃদ্ধির হারও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকে। বারবার নতুন হ্যান্ডসেট কেনার বাড়তি খরচ এড়াতে দৈনন্দিন ব্যবহারে ছয়টি সুনির্দিষ্ট কৌশলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। প্রথম কৌশলটি হলো ডিভাইসের ব্যাটারির সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
ফোনের টেকসই সক্ষমতা নির্ভর করে তাপমাত্রার মাত্রা ও চার্জিং পদ্ধতির ওপর। অ্যাপল, গুগল ও স্যামসাংয়ের পর্যবেক্ষণ অনুসারে মুঠোফোন ব্যবহারের জন্য প্রায় ৬২ থেকে ৭২ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা সবচেয়ে উপযোগী। ৩২ ডিগ্রির নিচে বা ৯৫ ডিগ্রির ওপরের তাপমাত্রা ব্যাটারির স্থায়ী ক্ষতি ডেকে আনে। নিয়মিত শতভাগ চার্জ না দিয়ে ব্যাটারির চার্জ ২০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ভালো, যা অতিরিক্ত চার্জিং সাইকেলের ক্ষয় কমায়। আধুনিক অনেক হ্যান্ডসেটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকে। এর পাশাপাশি ডার্ক মোড, স্বয়ংক্রিয় উজ্জ্বলতা নিয়ন্ত্রণ, কম স্ক্রিন টাইমআউট এবং অপ্রয়োজনীয় লোকেশন সেবা বন্ধ রাখলে ব্যাটারির ওপর চাপ অনেকটাই কমে আসে।
দ্বিতীয়ত ফোনকে যেকোনো বাহ্যিক আঘাত থেকে সুরক্ষা প্রদান করা জরুরি। আধুনিক বেশিরভাগ ফোন ধুলা ও পানির বিরুদ্ধে কার্যকর হলেও আকস্মিক দুর্ঘটনা এড়াতে একটি মজবুত ব্যাক কভার ও ভালো মানের স্ক্রিন প্রটেক্টর ব্যবহার করা আবশ্যক। এটি হাত থেকে পড়ে ডিসপ্লে ফেটে যাওয়া বা দাগ পড়া থেকে স্ক্রিনকে রক্ষা করে, যা পরবর্তীতে ডিভাইসটি পরিবর্তন বা বিক্রির ক্ষেত্রেও ভালো আর্থিক মূল্য নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
তৃতীয় বিষয়টি হলো ফোনের বাহ্যিক অংশ ও সংযোগ পোর্টগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা। চার্জিং পোর্ট ও স্পিকারের জালে দীর্ঘ সময় ধুলো জমলে চার্জিং ও শব্দের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়। মাইক্রোফাইবার কাপড়, সামান্য ডিশ সোপ, কাঠের টুথপিক এবং ৭০ শতাংশ অ্যালকোহল বা অনুমোদিত জীবাণুনাশক ওয়াইপ দিয়ে এসব অংশ পরিষ্কার করা সম্ভব। তবে কোনো অবস্থাতেই সংবেদনশীল পোর্টের ভেতর তরল উপাদান ঢোকানো বা ধাতব পিন দিয়ে খোঁচানো সম্পূর্ণ অনুচিত।
চতুর্থত হ্যান্ডসেটের সফটওয়্যার ও অপারেটিং সিস্টেম নিয়মিত হালনাগাদ রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। নতুন সফটওয়্যার কেবল নতুন সুবিধা যোগ করে না, বরং সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ত্রুটিগুলো দূর করে ডিভাইসের সুরক্ষা জোরদার করে। যে ফোনগুলোতে নিরাপত্তা আপডেট আসা বন্ধ হয়ে যায়, সেগুলো নতুন ডিজিটাল ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং বহু প্রয়োজনীয় অ্যাপের নিরাপদ সংস্করণ সেখানে অচল হয়ে পড়ে।
পঞ্চম কৌশল হলো অভ্যন্তরীণ মেমোরি বা স্টোরেজ সবসময় কিছুটা খালি রাখা। স্টোরেজ অতিরিক্ত পূর্ণ হয়ে গেলে ডিভাইসের কাজের গতি ধীর হয়ে যায়। বিশেষ করে কল অব ডিউটির মতো ভারী ভিডিও গেম একেকটি ১২ গিগাবাইট পর্যন্ত জায়গা দখল করতে পারে। মেমোরি খালি রাখতে বাড়তি ফাইল ও ছবি ক্লাউড স্টোরেজে সরিয়ে নেওয়া, অব্যবহৃত অ্যাপ মুছে ফেলা এবং সঙ্গীত বা ভিডিওর জন্য স্ট্রিমিং সেবা ব্যবহার করা বেশি কার্যকর।
সবশেষে ত্রুটি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে নতুন ফোন না কিনে মেরামত করার বিকল্পটি ভাবা উচিত। ব্যাটারি বা ডিসপ্লে নষ্ট হলে পুরো ফোন ফেলে দেওয়ার বদলে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি প্রতিস্থাপন করলেই একটি হ্যান্ডসেট আরও কয়েক বছর নির্বিঘ্নে ব্যবহার করা যায়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন