মে ১১, ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী বুধবার তিন দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যাচ্ছেন। বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির উত্তাল প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যিক অস্থিরতার মাঝে দুই শক্তিশালী দেশের শীর্ষ নেতার এই বৈঠক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
সফরকালে ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন যেখানে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্য ইস্যুগুলো প্রাধান্য পাবে। সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে যে এই বৈঠকে প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে যে ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে চীনের সক্রিয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা। চীন যেহেতু ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার এবং জ্বালানি আমদানিকারক তাই ওয়াশিংটন চায় বেইজিং যেন তাদের এই প্রভাব কাজে লাগিয়ে তেহরানকে শান্তি আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনে।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার যে বেইজিং যদি ইরানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক কিছুটা সীমিত করার ইঙ্গিত দেয় তবে তেহরান মার্কিন প্রস্তাবিত সমঝোতার পথে হাঁটতে বাধ্য হতে পারে। এছাড়া রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতার মধ্যে জোরালো আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাশিয়া ও ইরানের কাছে চীনের সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহের বিষয়টি ট্রাম্প সরাসরি শি জিনপিংয়ের কাছে উত্থাপন করতে পারেন।
অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিক থেকে বিচার করলে এই সফরটি বাণিজ্যিক টানাপোড়েন কমানোর একটি বড় সুযোগ হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চলা শুল্ক বিরোধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সামরিক ঝুঁকি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি অভিন্ন নীতিমালা তৈরির চেষ্টা চালানো হতে পারে। মূলত বিশ্ববাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে দুই দেশের সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়েছে। কূটনৈতিক আলোচনার বাইরেও ট্রাম্পের এই সফরে কিছু সাংস্কৃতিক কার্যক্রম থাকছে।
তিনি বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক টেম্পল অফ হেভেন পরিদর্শন করবেন এবং তার সম্মানে চীনা কর্তৃপক্ষ বিশেষ চা-আড্ডা ও রাষ্ট্রীয় ভোজসভার আয়োজন করেছে। মূলত চলতি বছরের মার্চ মাসে এই সফরটি হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে তা পিছিয়ে বর্তমানে নির্ধারিত হয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের উত্তেজনা কতটা প্রশমিত হয় এবং নতুন কোনো অর্থনৈতিক চুক্তি আসে কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন