সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত যেকোনো ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করলে তা নিয়ে দ্রুত যোগাযোগ ও তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে নতুন একটি দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ চ্যানেল চালু করতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।
ওয়াশিংটনে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে শীর্ষ বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। হোয়াইট হাউসের রেড রুমে অনুষ্ঠিত এই শীর্ষ বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং অচলাবস্থায় থাকা ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই নেতা এআই খাতে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ও পারস্পরিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি চলতি বছর আরও দুবার মুখোমুখি বসার বিষয়ে একমত হয়েছেন। হোয়াইট হাউস দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ চ্যানেল চালুর ঘোষণা দিলেও এ বিষয়ে বেইজিং তাৎক্ষণিকভাবে পৃথক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেনি।
বৈঠকটি জাঁকজমকপূর্ণ হলেও এতে বড় ধরনের কোনো আকস্মিক মোড় আসেনি। তবে উচ্চপর্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ চালু রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে চলতি বছরের নভেম্বরে শেষ হতে যাওয়া বাণিজ্যবিষয়ক সাময়িক সমঝোতার মেয়াদ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, যাতে দুই পক্ষের মধ্যে অর্থনৈতিক বোঝাপড়ার পরিসর আরও তৈরি হয়। বৈঠক শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান যে চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি উভয় দেশের জন্যই ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে। তিনি উল্লেখ করেন, উভয় পক্ষের আলোচনায় দারুণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সংঘাতের দিকে না নিয়ে সুস্থ প্রতিযোগিতায় রূপান্তরের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রতিযোগিতা এমন হওয়া উচিত যাতে একে অপরকে প্রযুক্তিগত দক্ষতায় ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা থাকবে, কাউকে নিঃশেষ করার লড়াই নয়। শি জিনপিং বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে উভয় দেশই বৈশ্বিক নেতৃত্বের অবস্থানে রয়েছে, তাই এই প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে ব্যবহারের পাশাপাশি এর ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার সামর্থ্য ও দায়িত্ব উভয় পক্ষেরই রয়েছে।
ভবিষ্যতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে চীনকে যেন আরও ন্যায্যতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা হয় সে বিষয়ে নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন শি জিনপিং। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে শি জিনপিং তাইওয়ান সংকট অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে মোকাবিলার জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, ইউক্রেন যুদ্ধ ও কোরীয় উপদ্বীপের চলমান অচলাবস্থা নিয়েও নেতাদের মধ্যে মতামত বিনিময় হয়। বাণিজ্যিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ২০২৭ ও ২০২৮ সালে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্তত এক কোটি মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করবে। একই সঙ্গে উভয় দেশ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের অসংবেদনশীল পণ্যের ওপর তুলনামূলক সুবিধাজনক শুল্ক কাঠামো কার্যকর করতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। সাংস্কৃতিক ও প্রতীকী সম্পর্কের অংশ হিসেবে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চিড়িয়াখানায় দুটি পান্ডা পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এই সফরে রাষ্ট্রীয় ভোজ ও সামরিক কুচকাওয়াজের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আর্কাইভসে সংরক্ষিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও ঐতিহাসিক সংবিধান পরিদর্শন করেন দুই নেতা। প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের তুলনা টেনে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে আমেরিকার বয়স আড়াই শ বছর হলেও চীনা সভ্যতার ইতিহাস ছয় হাজার বছরের। চলতি বছর আরও দুবার শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হবেন এই দুই নেতা। আগামী নভেম্বরে চীনের শেনঝেনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন বা অ্যাপেক সম্মেলন এবং ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ সম্মেলনে তারা পুনরায় আলোচনায় বসবেন।
বিশ্বজুড়ে দ্রুত প্রসারমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে কৌশলগত উত্তেজনা ও নিরাপত্তা শঙ্কা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই যৌথ যোগাযোগ চ্যানেল যেকোনো সামরিক বা নিরাপত্তা বিভ্রান্তি দ্রুত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন