আগস্ট ৯, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
প্রতিবেশী দেশ ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সুসংগঠিত ককরোচ আন্দোলন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই আন্দোলনকে তাদের প্রশাসনের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারি বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও ব্যাপক অনিয়মের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পরবর্তীতে বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের সংকটের বিরুদ্ধে জোরালো গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
অনলাইনভিত্তিক ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির পতাকাতলে রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে শুরু হয়ে এই আন্দোলন বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।আন্দোলনকারীদের প্রাথমিক চাপের মুখে গত পঁচিশ জুলাই ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকা প্রশাসনের জন্য একটি বিরল ঘটনা। এর পরেই সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করে, যার মধ্যে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের শাস্তি কঠোর করা এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া আন্দোলন দমনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত নজরদারি ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।মূলত চাকরির অভাব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর অনাস্থার কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভই এই আন্দোলনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। যদিও আন্দোলনকারীরা তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জনের পর কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রেখেছে, তবে ঝাড়খণ্ডসহ কিছু অঞ্চলে এখনও বিক্ষোভ চলমান রয়েছে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জনমত শোনার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, যা আগামী দিনে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর তরুণ ভোটারদের দাবি পূরণের চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে।ক্ষমতাসীন ও বিরোধী উভয় পক্ষই এই তরুণ ভোটারদের ক্ষোভকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগানোর কৌশল নিয়ে কাজ করছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন