সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম
সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা হবে বলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে সরকারের মূল অগ্রাধিকার হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করা, তবে একই সাথে জাতীয় নির্বাচনে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলোকেও সংবিধান সংশোধনে পূর্ণাঙ্গভাবে ধারণ করা হবে।
রবিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের গণমাধ্যম সেন্টারে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির তৃতীয় সভা শেষে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই ঐতিহাসিক নীতিনির্ধারণী অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের যুক্ত করা ঐতিহাসিক ধারাটি সংবিধানে পুনঃস্থাপনের বিষয়টি নির্বাচনি ইশতেহারেরই অঙ্গীকার বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পূর্বে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূল ভিত্তি হিসেবে সংবিধানের ৮ অনুচ্ছেদে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের বিধানটি যুক্ত করেছিলেন।
সেই মৌলিক বিশ্বাসকে সংবিধানে আবারও মর্যাদার সাথে ফিরিয়ে আনাই তাদের দলীয় ইশতেহারের মূল অঙ্গীকার। আগামী বছরের শুরুতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই বহুল প্রতীক্ষিত সংবিধান সংশোধনের বিল আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি। গণভোটের আইনি বাধ্যবাধকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বিগত গণঅভ্যুত্থান ও উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট রায়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে বিগত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়ে সংবিধানের বিতর্কিত ১৫তম সংশোধনী বাতিল ঘোষিত হওয়ায় ১৪২ অনুচ্ছেদটি সম্পূর্ণভাবে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। ফলে সংবিধানে এমন কিছু সুদূরপ্রসারী ও গুণগত মৌলিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ অনুচ্ছেদের কাঠামোগত সংস্কার। রাষ্ট্রীয় বিধিমালার বিধান অনুযায়ী এসব অনুচ্ছেদে যেকোনো পরিবর্তন আনতে গেলে রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত স্বাক্ষরের আগে অবশ্যই দেশের সাধারণ জনগণের কাছে গিয়ে গণভোটের মুখোমুখি হতে হবে।
জাতীয় সংসদে সংশোধনী বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হওয়ার পরই দেশব্যাপী এই সাংবিধানিক গণভোট আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার স্থায়ী আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন রক্ষাকবচ তৈরির প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সুরক্ষায় গণভোটের প্রস্তাব প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আহমদ জানান যে রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধিকার ফিরিয়ে আনতে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে টানা ১৭ বছর ধরে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছে, ভবিষ্যতের কোনো সুবিধাবাদী সংসদ যেন সেই ব্যবস্থা সহজে বাতিল করে দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই কৌশলগত প্রস্তাব।
এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলোতে ভবিষ্যতে যেকোনো সংশোধনী আনতে হলেও সংসদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার বাইরে বাধ্যতামূলক গণভোটের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব টেবিলে এসেছে। সংবিধান সংশোধনের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক জানান যে আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই কমিটির পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ ও রিপোর্ট জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।
সংসদে সেই বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর তার ওপর ভিত্তি করেই আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি সমন্বিত খসড়া বিল তৈরি করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে জানুয়ারির প্রথম সংসদীয় অধিবেশনেই বিলটি সংসদে উত্থাপিত হতে পারে। সেখানে বিস্তারিত বিতর্ক ও আলোচনা শেষে বিলটি পাস হলে সরাসরি গণভোটের মাধ্যমে তা চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন