অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যসংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা পদে নিযুক্ত হয়েছেন প্রখ্যাত অভিনেতা ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জ্যেষ্ঠ নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। বুধবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করার বিষয়টি জানানো হয়। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তথ্যসংস্কৃতি বিভাগের এই উপদেষ্টা পদটি হবে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমমর্যাদার।
প্রজ্ঞাপন জারির মুহূর্ত থেকেই তার এই কার্যকাল কার্যকর হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির সাফল্যের অন্যতম শীর্ষ রূপকার হিসেবে কাজ করেছিলেন এই অভিনেতা।
ভোটের ফল প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যেই তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন এবং ভবিষ্যতে তাকে বড় দায়িত্বে যুক্ত করার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
নির্বাচনী প্রচারের স্মৃতিচারণ করে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, মিঠুন চক্রবর্তী অত্যন্ত নিঃস্বার্থভাবে রাজ্যের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং নারীদের সুরক্ষায় নিরলস পরিশ্রম করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছিলেন, নির্বাচনের আগের আট-দশ মাস ধরে নিয়মিত অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক বৈঠক এবং টানা তিন-চার মাস ধরে অসংখ্য সভা ও পথসভা করেছেন মিঠুন।
তিনি জাতীয় নেতা হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূল স্তরে নেমে সাধারণ মানুষের কাছে গেছেন। শুভেন্দু স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেন, জনগণের রায়ে তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রী হলেও এই বড় রাজনৈতিক বিজয়ের নেপথ্য কারিগরদের মধ্যে মিঠুন চক্রবর্তী অন্যতম।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তীও।
তিনি দৃঢ়তার সাথে মন্তব্য করেছিলেন যে, পশ্চিমবঙ্গের জন্য এর চেয়ে যোগ্য ও কার্যকর মুখ্যমন্ত্রী আর কেউ হতে পারতেন না।
শপথ গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই শুভেন্দু যেভাবে জনস্বার্থে কাজ করছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেছিলেন, এই রাজনৈতিক যোদ্ধা আগামীতেও একের পর এক লড়াই লড়বেন এবং তিনি সবসময় তার পেছনে ঢাল হয়ে পাশে থাকবেন।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে মিঠুন চক্রবর্তী গত শতাব্দীর ষাট ও সত্তরের দশকে বামপন্থী নকশাল আন্দোলনের সাথে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন।
পরবর্তীতে সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতিতে তার পথচলা শুরু হয় তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরে। রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় মনোনীত করে পাঠিয়েছিলেন।
তবে ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর শারীরিক কারণ ও ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট দেখিয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভা সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০২১ সালের ৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা এবং পরবর্তীতে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচনী প্রচারের মূল মুখ হয়ে ওঠেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন