আগস্ট ২৪, ২০২৫, ০১:৪১ পিএম
অধিকৃত পশ্চিমতীরের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ফিলিস্তিনি গ্রাম আল-মুগাইরে ইসরাইলি সেনাবাহিনী প্রায় ৩ হাজার জলপাই গাছ উপড়ে ফেলেছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যারা অভিযোগ করছেন যে এটি তাদের পূর্বপুরুষের জমি থেকে উচ্ছেদ করার একটি বৃহত্তর অভিযানের অংশ।
গ্রাম পরিষদের উপ-প্রধান মারজুক আবু নাইমের মতে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী এই গাছগুলো উপড়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে, কারণ তাদের দাবি, এই গাছগুলো নিকটবর্তী ইসরাইলি বসতি স্থাপনের রাস্তার জন্য ‘নিরাপত্তা হুমকি’। তিনি জানান, শনিবার ভোরে সেনারা ৩০টিরও বেশি বাড়িতে হামলা চালিয়ে সম্পত্তি এবং যানবাহনের ক্ষতি করেছে।
এই ধ্বংসযজ্ঞের ফলে আল-মুগাইর গ্রামের প্রায় ৪ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই গ্রামের মানুষের জীবিকার প্রধান উৎসই হলো জলপাই চাষ এবং গবাদি পশু পালন।
ফিলিস্তিনি গবেষক হামজা জুবাইদাত বলেন, ইসরাইল এভাবে গাছ উপড়ে ফেলে, পানির উৎস জব্দ করে এবং কৃষকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে ফিলিস্তিনিদের খাদ্য ও পানির নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
ফিলিস্তিনিদের কাছে জলপাই গাছ শুধু অর্থনৈতিক নিরাপত্তার উৎস নয়, বরং ঐতিহ্য, পরিচয় এবং ভূমির সাথে সংযোগের প্রতীক। আল-মুগাইরে এই হাজার হাজার গাছ উপড়ে ফেলার ঘটনা আরও বেশি ভূমি দখল এবং জোরপূর্বক উচ্ছেদের আশঙ্কায় ফেলেছে। জুবাইদাত বলেন, "এটি নতুন নয়; কয়েক দশক ধরে একই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।"
গাজায় ইসরাইলের চলমান আগ্রাসনের মধ্যে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস (OCHA) অনুসারে, জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৪ সালের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের ওপর ২ হাজার ৩৭০টিরও বেশি বসতি স্থাপনকারী আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ইসরাইলি বাহিনী এবং বসতি স্থাপনকারীদের হাতে কমপক্ষে ৬৭১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২৯টি শিশু। এই ক্রমবর্ধমান সহিংসতা পশ্চিম তীরে মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন