শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

ইরানের ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া শুরু ৩ দেশের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৪:৫১ পিএম

ইরানের ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া শুরু ৩ দেশের

ছবি - সংগৃহীত

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে ফের উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় জাতিসংঘের প্রধান নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আওতায় এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তিন দেশের এই পদক্ষেপের ফলে কার্যকর হবে ‘স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম’, যার মাধ্যমে আগামী ৩০ দিনের মধ্যেই নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনা হতে পারে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে ই-থ্রি নামে পরিচিত এই তিন দেশ এই পদক্ষেপের কথা জানায়।

চিঠিতে তারা অভিযোগ করে, ইরান স্পষ্ট ও ইচ্ছাকৃতভাবে ২০১৫ সালের চুক্তি ভঙ্গ করেছে এবং সামরিক পর্যায়ের কাছাকাছি মাত্রায় বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ করছে। তাদের দাবি, এর কোনো বেসামরিক যুক্তি নেই এবং এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই পদক্ষেপের আইনগত এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়া ও চীনও ইরানের অবস্থানকে সমর্থন করছে। তেহরান আরও জানিয়েছে, পশ্চিমাদের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে চলমান প্রক্রিয়াকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তারা এটিকে ‘উসকানিমূলক ও অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা’ আখ্যা দিয়ে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি ইরানকে সতর্ক করে বলেছিল যে, আগস্টের শেষ নাগাদ কূটনৈতিক সমাধানে রাজি না হলে নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনা হবে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি জানিয়েছেন, ইরান নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ইরান কোনো বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়নি।

ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা ই-থ্রি-এর সঙ্গে কাজ করবে যাতে স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়। একইসঙ্গে তারা ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতেও প্রস্তুত—যাতে ইস্যুটির শান্তিপূর্ণ সমাধান পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় এবং পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর জবাবে ইরান তার পারমাণবিক কার্যক্রম জোরদার করে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বলছে, ইরানের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কিনা তা নিশ্চিত নয়। তবে ইরান জোর দিয়ে বলছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না।