শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

দিল্লি থেকে রোহিঙ্গাদের ধরে সাগরে ফেলে দিচ্ছে ভারত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

আগস্ট ২৯, ২০২৫, ১১:৪২ এএম

দিল্লি থেকে রোহিঙ্গাদের ধরে সাগরে ফেলে দিচ্ছে ভারত

ছবি - সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে আটক করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নৌবাহিনীর জাহাজে করে সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত—এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৪০ জন সদস্য। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, দিল্লি থেকে বিমানে করে প্রথমে রোহিঙ্গাদের বঙ্গোপসাগরের একটি দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাদের নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে আন্দামান সাগরে ফেলে দেওয়া হয়, যদিও তাদের লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়েছিল। পরে তারা সাঁতরে তীরে ওঠেন। বর্তমানে তাদের বেশিরভাগই বাহটু আর্মি (বিএইচএ)-এর কাছে আশ্রয় নিয়েছেন, যারা দক্ষিণ-পশ্চিম মিয়ানমারে জান্তার সেনাদের বিরুদ্ধে লড়ছে। এই রোহিঙ্গারা এখন মিয়ানমারে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি।

‘জন’ নামের এক রোহিঙ্গা তার ভাইকে ফোনে জানান, "আমাদের হাত বেঁধে, চোখ-মুখ ঢেকে বন্দির মতো জাহাজে তোলা হলো। তারপর সমুদ্রে ফেলে দিলো।" আরেক রোহিঙ্গা সৈয়দ নূর ভিডিও কলে বলেন, "আমরা এখানে নিরাপদ নই। পুরো এলাকা যেন যুদ্ধক্ষেত্র।"

বিবিসি জানায়, দিল্লি থেকে সরিয়ে নেওয়ার তিন মাস পর তারা মিয়ানমারে ওই রোহিঙ্গাদের খুঁজে পায়। শরণার্থীদের ও দিল্লিতে থাকা তাদের স্বজনদের ভাষ্য, বিশেষজ্ঞদের তদন্ত ও তথ্য জোগাড় করে বিবিসি ঘটনার ধারাবাহিকতা পুনর্গঠন করেছে।

জাতিসংঘ বলছে, ভারত রোহিঙ্গাদের জীবনকে "চরম ঝুঁকির" মুখে ঠেলে দিয়েছে। মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ বলেন, এসব অভিযোগ প্রমাণের মতো "গুরুত্বপূর্ণ তথ্য" তার হাতে আছে। তিনি জেনেভায় ভারতের মিশন প্রধানের কাছে এ সংক্রান্ত প্রমাণও জমা দিয়েছেন, কিন্তু কোনো উত্তর পাননি।

ভারতে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ। দেশটি তাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না; বরং ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করে। বর্তমানে ভারতে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধিত হলেও, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে প্রকৃত সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি।

এদিকে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি এই অভিযোগগুলোকে “অবাস্তব কল্পনা” বলে মন্তব্য করেছেন। মামলার শুনানি স্থগিত হয়ে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হয়েছে, যখন সিদ্ধান্ত হবে রোহিঙ্গারা শরণার্থী নাকি অবৈধ অভিবাসী এবং তাদের ফেরত পাঠানো যাবে কি না।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ভয়াবহ অভিযানের পর লাখো রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি।