আগস্ট ২৯, ২০২৫, ১২:১১ পিএম
ইসলামে জুমার খুতবা মনোযোগের সঙ্গে শ্রবণ করা ওয়াজিব। এই সময় কোনো ধরনের কথা বলা, কাজ করা বা এমনকি তাসবিহ পড়াও নিষিদ্ধ। হাদিস শরিফ ও ফকিহদের মতে, জুমার খুতবার সময় নীরবতা পালন করা এবং মনোযোগ দিয়ে ইমামের বক্তব্য শোনা অত্যন্ত জরুরি।
হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত এক ঘটনায় তিনি উবাই ইবনে কাআব (রা.)-কে খুতবা চলাকালে একটি প্রশ্ন করেছিলেন। কিন্তু উবাই (রা.) তার প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি। নামাজ শেষে যখন এর কারণ জানতে চাওয়া হয়, তখন উবাই (রা.) বলেন, খুতবা চলাকালীন কথা বলার কারণে তিনি জুমার কোনো সওয়াব পাননি। পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই (রা.)-এর এই কথাকে সঠিক বলে জানিয়ে দেন।
এছাড়া, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “তুমি যদি ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় পাশের ব্যক্তিকে কথা বলতে নিষেধ কর, তবে তুমি অনর্থক কাজ করলে।” (সহিহ মুসলিম : ৮৫১) এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, নীরবতা এমনভাবে পালন করতে হবে যে, কাউকে চুপ থাকতে বলার জন্যও কথা বলা যাবে না।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ইসলামের বিধান অনুযায়ী, জুমার খুতবা শুরু হলে সব ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা বাধ্যতামূলক। ফকিহগণ উল্লিখিত হাদিস ও অন্যান্য আসারের আলোকে খুতবা চলাকালীন কোনো কথা বলা, তাসবিহ পড়া, বা দরুদ শরিফ পাঠ করাকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। মূলত, খুতবার উদ্দেশ্য হলো পরিপূর্ণ মনোযোগ সহকারে ইমামের বক্তব্য শোনা এবং তা থেকে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করা।