আগস্ট ২৯, ২০২৫, ১২:২৯ পিএম
অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, রিমান্ডে থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে জিজ্ঞাসাবাদে তার ও তার বাবার বিরুদ্ধে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। সিআইডির ভাষ্যমতে, তারা অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল দখল করে নিয়েছেন এবং দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন।
সিআইডি সূত্র জানায়, নাসির উদ্দিন সাথী ‘মাই টিভি’র প্রকৃত মালিক নন। বিলকিস জাহান নামের এক নারীর কাছ থেকে জাল-জালিয়াতি, পেশিশক্তি ও পতিত সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-এমপিকে ব্যবহার করে চ্যানেলটি দখল করা হয়। এই অবৈধ কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তারা নিজেদেরকে প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, আফ্রিদির বাবা নাসির উদ্দিন সাথী বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়ে একটি বড় অপরাধ সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন। বাবার সহযোগিতায় ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তার বিরুদ্ধে নারী সরবরাহ, চাকরি বাণিজ্য, মাদক কারবারসহ অসংখ্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন।
ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় থেকে তৌহিদ আফ্রিদি নিজেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ভাবতে শুরু করেন। কখনো রাত-বিরাতে মন্ত্রীদের সঙ্গে চলাফেরা, কখনো আবার মন্ত্রী-এমপিদের ছেলেমেয়ের সঙ্গে আড্ডা দিতেন। বিপুল অর্থের বিনিময়ে শোবিজের উঠতি নায়িকাদের সঙ্গে তার মেলামেশার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বিদেশে গিয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ অপরাধীদের সঙ্গেও তিনি দেখা করতেন বলে তদন্তে তথ্য মিলেছে।
সিআইডি জানিয়েছে, আফ্রিদির শক্তিশালী একটি অপরাধ সিন্ডিকেট রয়েছে, যা ভুক্তভোগীদের কাছে ‘গিভ অ্যান্ড টেক সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিত। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে চাইলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি বা গুমের ভয় দেখানো হতো।
গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থেকে নাসির উদ্দিন সাথীকে এবং ২৪ আগস্ট বরিশাল থেকে তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা দুজনই যাত্রাবাড়ী থানায় আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলার আসামি। নাসির উদ্দিন সাথীকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, আর তৌহিদ আফ্রিদি বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন।
সিআইডি বলছে, আফ্রিদির কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল, হার্ডডিস্ক ও ম্যাকবুক ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। এসব ডিভাইস থেকে তার অপরাধ জগতের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদে আফ্রিদি ও তার বাবার অবৈধ সম্পদের বিষয়েও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই করে সত্যতা মিললে তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করা হবে।