রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

হাসিনার মামলায় যে ৫ অভিযোগ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৯:৪৪ এএম

হাসিনার মামলায় যে ৫ অভিযোগ

সারা দেশের মানুষের বহুল প্রতীক্ষিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ সোমবার ঘোষণা করা হচ্ছে। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ মোট তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করবেন।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এই রায়কে কেন্দ্র করে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার ওপর ভিত্তি করেই বিচারকাজ পরিচালিত হয়েছে।আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রসিকিউশনের আনা প্রথম অভিযোগটি হলো উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন শেখ হাসিনা গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন।

এই বক্তব্যের জের ধরে আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ তৎকালীন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্ররোচনা ও সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে হামলা চালায়। দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের দমন করার জন্য হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং অন্যান্য প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সরাসরি নির্দেশ দেন, যা আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন।

তৃতীয় অভিযোগটি রংপুরের একটি সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আবু সাঈদ নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এই তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। চতুর্থ অভিযোগটি আনা হয়েছে পুরান ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকার ঘটনায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ছয়জন নিহত হন, এই ঘটনাতেও শেখ হাসিনাসহ অন্যদের অভিযুক্ত করা হয়। প্রসিকিউশনের পঞ্চম এবং শেষ অভিযোগটি আশুলিয়ার মর্মান্তিক ঘটনা।

একই দিন অর্থাৎ ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যার পর তাদের মধ্যে পাঁচজনের লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়। শুধু তাই নয়, গুরুতর আহত আরেকজনকেও পুড়িয়ে মারার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এই পাঁচটি অভিযোগের ভিত্তিতেই ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এম এইচ তামিম ও ফারুক আহাম্মদ মামলাটি পরিচালনা করেন।