রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সেনা মোতায়েন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৯:৫৯ এএম

ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সেনা মোতায়েন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আজ সোমবার ঘোষণা হচ্ছে। এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও এর আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সোমবার ভোর থেকেই ট্রাইব্যুনাল এলাকার কার্জন হল-সংলগ্ন প্রধান সড়কের একপাশ যান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সেখানে পর্যাপ্তসংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। জানা গেছে, গত শনিবার সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনায় সেনাসদরে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

এর আগেও গত বৃহস্পতিবার রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে চিঠি দিয়ে সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল।সারা দেশের মানুষ বহুল প্রত্যাশিত এই গণহত্যার রায়ের জন্য অধীর অপেক্ষায় রয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ববাসীর নজরও আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দিকে। কারণ, গণহত্যার দায়ে সরকারের সর্বোচ্চ পদধারী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম কোনো বিচারের রায়।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়, ষড়যন্ত্র, উসকানি, গণহত্যা ও পরিকল্পনাসহ মানবতা অপরাধের মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল।

প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শেখ হাসিনা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক এবং পদ্ধতিগত দমনপীড়ন চালানোর সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৪ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, রংপুরে আবু সাঈদকে হত্যা, ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যা এবং একই দিনে আশুলিয়ায় ছাত্রদের গুলি করে হত্যা ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনা। এই দমনপীড়নে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে হত্যা এবং পঁচিশ হাজারের বেশি মানুষকে আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।