নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ১১:০২ এএম
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে হাজির হয়েছেন নিহত মীর মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।
সোমবার সকালে ট্রাইব্যুনালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, শেখ হাসিনা যে অপরাধ করেছে তার জন্য যদি তাকে হাজার বারও ফাঁসি দেওয়া হয়, সেটাও তার জন্য কম হয়ে যাবে।
তিনি মনে করেন, শেখ হাসিনার অন্যায়-অপরাধের বিচার গত পাঁচ আগস্টেই হয়ে গেছে, এখন কেবল আদালতের আনুষ্ঠানিক রায় প্রকাশের অপেক্ষা।
মীর স্নিগ্ধ তার প্রতিক্রিয়ায় আরও বলেন, শুধু তিনি বা তার পরিবার নয়, বরং গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডের শিকার প্রতিটি পরিবার এবং গত সতেরো বছর ধরে নির্যাতিত হওয়া অগণিত মানুষের একটাই প্রত্যাশা—শেখ হাসিনার ফাঁসি যেন কার্যকর করা হয়। এই রায় শোনার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। এদিকে, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত এই মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন এবং বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও সুপ্রিম কোর্ট ও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় টহল দিচ্ছেন। তৎপর রয়েছেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও।নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রোববার সন্ধ্যার পর থেকেই দোয়েল চত্বর থেকে শিক্ষাভবনমুখী প্রধান সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে এবং জনসাধারণের চলাচলও অত্যন্ত সীমিত করা হয়েছে।
এই মামলার রায় আজ বেলা এগারোটার পর ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে ঘোষণা করার কথা রয়েছে। মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক রয়েছেন। তবে মামলার অন্যতম আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে সকালেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রিজনভ্যানে করে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন