রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,
বিশ্ব শিক্ষক দিবস

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০০ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিচ্ছে সরকার

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০০ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিচ্ছে সরকার

ছবি: Ai

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এবার প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১০০ জন গুণী শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা প্রদান করছে সরকার। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই কেন্দ্রীয় উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে নগদ দুই লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইউনেস্কোর উদ্যোগে ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় শিক্ষকদের অবদানকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে।

এ বছর দিবসটির আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে স্ট্যান্ডিং উইথ টিচার্স: সিক্সটি ইয়ার্স অব প্রোটেকটিং দ্য প্রফেশন, অ্যাডভান্সিং ইটস স্ট্যাটাস, শেপিং আওয়ার ফিউচার্স। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবার জাতীয় সম্মাননার পরিধি ব্যাপক হারে বাড়ানো হয়েছে। ইতিপূর্বে যেখানে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে এই স্বীকৃতি দেওয়া হতো, সেখানে এবার তা উন্নীত করে একশত জনে রূপান্তর করা হয়েছে। দেশের সব প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্তরের সাধারণ স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে নিবিড় মূল্যায়নের মাধ্যমে এই গুণী শিক্ষকদের বাছাই করা হয়। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নীতিমালা অনুসারে দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে একযোগে পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ক্যাটাগরি অনুসারে মোট ১০০ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রাথমিক স্তরে ১০ জন, মাধ্যমিক স্তরে ২০ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ২৫ জন শিক্ষককে এই পুরস্কারের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ২০ জন শিক্ষক এই সম্মাননা পাচ্ছেন। পাশাপাশি মেডিকেল কলেজে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনজন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনজন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে চারজন এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় পাঁচজন শিক্ষককে এই জাতীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন গঠিত পৃথক সার্চ কমিটির সুপারিশ করা প্যানেল থেকে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি এই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, অতীত ধারা ভেঙে বর্তমান সরকার প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষার প্রতিটি স্তরকে মূল্যায়নের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষকমণ্ডলী তরুণ প্রজন্মের ভেতরে সততা, গভীর দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ তৈরি করে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি বিনির্মাণে মূল ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষকদের যথাযথ সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত গবেষণামুখী ও বাস্তবসম্মত একটি শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনে পাঁচ অক্টোবর দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দিবসটি উদযাপিত হয় এবং ১৯৯৫ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতি বছর ইউনেস্কোর অনুমোদিত পৃথক প্রতিপাদ্যের আলোকে এই দিবসটি পালন করা হচ্ছে।