জুন ১৬, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র কখনোই একসাথে যায়নি। আগেও যায়নি অর্থাৎ আওয়ামী লীগের জন্মের পরেও যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এই সভার আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যখনই দেশ ফ্যাসিবাদের আক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে তখন গণমাধ্যম কর্মীরা ছুটে গিয়ে সত্য ঘটনা কাভার করে জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন। নিজেকে একজন উদার গণতন্ত্রবাদী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ কিংবা অন্য কোনো পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাস করেন না। এ সময় তিনি দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে নিজের সুনির্দিষ্ট মত দেন।
বিএনপিকে একটি গণতান্ত্রিক ও উদারপন্থী রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষের জন্য বিএনপিই সবচেয়ে নিরাপদ রাজনৈতিক শক্তি।সংবাদপত্রের কালো দিবস দীর্ঘদিন ধরেই সাংবাদিক সমাজ ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন বলে তিনি উল্লেখ করেন। গণতন্ত্র আন্দোলন এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সংগ্রামে সাংবাদিকরা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে মনে করেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, জীবনের কঠিন সময়গুলোতে সাংবাদিকরা শুধু সংবাদ পরিবেশনই করেননি, বরং অনেক ক্ষেত্রে আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সাংবাদিকরা জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরতে অনন্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে এখন এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকারও এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তবে এখনও অনেক সাংবাদিক বেকার অবস্থায় রয়েছেন জানিয়ে তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার, সংবাদমাধ্যম মালিক এবং সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বন্ধ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন নতুন সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির তাগিদ দেন তিনি।দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রী বারবার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন এবং এ লক্ষ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ও অব্যাহত রেখেছেন।
দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির বিভিন্ন অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে সমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা চলছে। এসব অপতৎপরতা রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সভায় বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিইউজের সভাপতি শহিদুল ইসলাম।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন