সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনাটি চাঁদা না দেওয়ার কারণে নয়, বরং জমির মালিকানা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। রোববার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানীর ওই স্থানে নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ভেতরের জমি নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভাঙচুর হয়েছে।
তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, এই ঘটনার সঙ্গে বিএনপি বা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নেই। জমি দখলের অভিযোগ থেকেই সহিংসতার সূত্রপাত হয় বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন। রাশেদ খাঁন জানান, নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেড সংলগ্ন এলাকায় সাবেক কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার মোট ২৩ কাঠা জমি রয়েছে, যার মধ্যে ৮ কাঠা জায়গা নিয়ে মালিকানার বিরোধ চলছে।
সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ওই ৮ কাঠা জমি দখল করেছিলেন নিউ গিনি প্রোপার্টিজের মালিক আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দীন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় অভিযুক্ত হয়ে নাজিম উদ্দীন ইতিপূর্বে কারাভোগও করেছেন। পরবর্তীতে ওই বিরোধপূর্ণ পরিসরেই সালমান মুক্তাদির তাঁর নতুন স্টুডিও স্থাপন করেন।
সম্প্রতি নাজিম উদ্দীনের কাছ থেকে ৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের জায়গা ভাড়া নিয়ে সেখানে নিজের ক্রিয়েটিভ স্টুডিওটি চালু করেছিলেন সালমান মুক্তাদির। তবে একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক নাজিম উদ্দীন সীমানায় এমনভাবে তিনটি নতুন ফটক নির্মাণ করেন, যাতে ভেতরে থাকা অন্য বৈধ জমির মালিকেরা প্রবেশ করতে না পারেন। সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি ছিল, পুরো জায়গাটি স্থায়ীভাবে গ্রাস করার অসৎ উদ্দেশ্যেই সেই ফটকগুলো নির্মাণ করা হয়। ফটক ভাঙার উদ্দেশ্য নিয়ে আসা ভাড়াটে ব্যক্তিরাই স্টুডিওতে তাণ্ডব চালায়।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, ফটক নির্মাণের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জমির মালিক দাবিদার ওই সাবেক কর্মকর্তারা বহিরাগত লোকজন ভাড়া করে সেই প্রবেশপথ ভাঙতে পাঠান। ভাঙচুর চালানোর একপর্যায়ে আক্রমণকারীরা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওটিকেও নাজিম উদ্দীনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করে ভুলবশত সেখানে হামলা চালায়। এই ঘটনাকে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যা দিয়ে রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেন, সরকারি সাবেক কর্মকর্তা হিসেবে তাদের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। নিজেদের পক্ষ থেকে পেশিশক্তি ব্যবহার করার ফলেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের জন্য বিএনপির ওপর অপবাদ চাপানোর অনাকাঙ্ক্ষিত সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন অপরাধের দায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর চাপিয়ে তাদের ভিলেন বানানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সব পক্ষের বক্তব্য না নিয়ে এবং সামগ্রিক ঘটনা না জেনে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একতরফা অভিযোগ আনায় সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। তবে সালমান মুক্তাদিরের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনায় আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে তিনি আশা ব্যক্ত করেন যে মূল অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর উপযুক্ত বিচার পাবেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন