অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা সরকারি কাজে বাধা ও মারধরের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের এজলাসে দাঁড়িয়ে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেন আখতারুজ্জামান।
শুনানির সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ সোনার বাংলাদেশ ছিল, সবাই লুটেপুটে খাচ্ছে। তিনি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, প্রসিকিউশন তার অপরাধ প্রমাণ করুক, প্রমাণ হলে তিনি ফাঁসির দড়িতে যেতেও প্রস্তুত আছেন। পুরো মামলাটিকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করে তিনি আদালতে আরও উল্লেখ করেন, থানায় মামলা রুজু হওয়ার আগেই ডিবি পুলিশ তার বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
এর আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সোয়া সাতটার দিকে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করে ডিবি।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান তালুকদার জানান, ডিবি পুলিশ আসামিকে থানায় হস্তান্তর করার পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসারে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারি কাজে বাধার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে বিশদ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর আগে বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা তৈরি, সরকারি কাজে বাধা এবং মারধরের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম। একই দিন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় এই মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ আনা হয়, গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বিলম্ব হয়। এতে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে গেলে আখতারুজ্জামান তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে অভিযুক্ত আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালককে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি মারধরের হুমকি দেন এবং বিমানমন্ত্রীকে নিয়েও অশালীন মন্তব্য করেন। একই সময় তার সাথে থাকা ব্যক্তিরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় মোবাইল ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ শুরু করলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বাধা দেন। তখন ক্ষিপ্ত হয়ে আখতারুজ্জামান ওই নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে এজাহারে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলা এবং বিমান বাংলাদেশের প্রতিনিধির সাথে মারমুখী আচরণ করার অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।
রাজনৈতিক জীবনে অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান ইতিপূর্বে বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তিনি একাধিকবার বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন