শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬,
ইউক্রেন যুদ্ধ

ইউক্রেন যুদ্ধের চাপে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াচ্ছে রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম

ইউক্রেন যুদ্ধের চাপে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াচ্ছে রাশিয়া

ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ব্যয় বাড়তে থাকায় আগামী বছর প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড পরিমাণ ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে রাশিয়া। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কমানো এবং নতুন করে কর বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে দেশটির নতুন খসড়া বাজেটের নথিতে।

ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে এবং দুই পক্ষই দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে। মস্কো প্রায় প্রতিদিনই কিয়েভে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে অনুমোদনের জন্য খসড়া বাজেটটি জমা দেওয়া হয়েছে। খসড়া বাজেট অনুযায়ী, ২০২৭ সালে প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড ১৭ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন রুবল বা প্রায় ২০৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছে রাশিয়া। গত বছর ২০২৭ সালের জন্য যে ব্যয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান বরাদ্দ তার তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি। নথি অনুযায়ী, মোট সরকারি ব্যয়ের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি অংশ যাবে কেবল প্রতিরক্ষা খাতে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণ—এই তিন খাতের সম্মিলিত বরাদ্দের চেয়েও সামরিক খাতের ব্যয় বেশি হবে।

২০২৮ ও ২০২৯ সালে প্রতিরক্ষা ব্যয় কমার পূর্বাভাস দেওয়া হলেও যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়া দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা ব্যয়ের পূর্বাভাস একাধিকবার ছাড়িয়ে গেছে।

ইউরোপিয়ান পলিসি অ্যানালাইসিস সেন্টারের জ্যেষ্ঠ গবেষক আলেকজান্ডার কোলিয়ন্দ্র জানান, প্রকৃত প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয় আরও বেশি হতে পারে, কারণ এই খাতের বড় অংশের হিসাব গোপন রাখা হয়। প্রকাশিত অঙ্কগুলো মূলত অর্থ মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রাথমিক প্রস্তাব। গত সপ্তাহে বাজেট প্রকাশের সময় রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভ সামাজিক কল্যাণ ও প্রতিরক্ষা উভয়কেই অগ্রাধিকার খাত হিসেবে দাবি করেন। তবে বাজেটের নথিতে সামরিক খাতের বাইরে বড় ধরনের কাটছাঁটের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ২০২৭ সালের জন্য মূল পরিকল্পনার তুলনায় ৫ শতাংশের বেশি বরাদ্দ কমানো হচ্ছে। সামাজিক কর্মসূচিতে বরাদ্দ কমতে পারে ৬ শতাংশের বেশি। এমনকি সরকারের ক্যানসারবিরোধী কর্মসূচিতে মূল বাজেটের প্রায় ৯৭ শতাংশ অর্থ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার সরকারি কর্মীদের বেতন ও সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি অবকাঠামো ও সড়ক উন্নয়ন খাতের ব্যয়ও কমিয়ে দিচ্ছে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক আমানত ও সম্পত্তি বিক্রির ওপর করের হার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অভিযান শুরুর পর থেকে প্রতি বছরই রাশিয়ার বাজেটে ঘাটতি দেখা গেছে।

২০২৭ সালে বাজেট ঘাটতি প্রায় ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন রুবল বা ৬৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। গত বছর এই ঘাটতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল ৩ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন রুবল, যা নতুন হিসাবে ৭০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই বছর সরকারি ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের বা জিডিপির ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এই হার কম হলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি। ফলে ঋণ গ্রহণের পরিমাণও প্রাথমিক পরিকল্পনার তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ বাড়তে পারে।