নভেম্বর ৯, ২০২৬, ০২:৩৩ এএম
পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর বলেছেন যে বর্তমান সময়ের প্রধান চাহিদা হলো সংঘাত এড়িয়ে শান্তি এবং প্রতিহিংসা ভুলে সম্প্রীতি বজায় রাখা। বিভেদের রাজনীতি পরিহার করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন যে ব্যক্তিগত স্বার্থের কথা না ভেবে দলমত নির্বিশেষে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। সম্প্রতি দশমিনা উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সূচিত হওয়া এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে উপজেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
নির্বাচনী অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন যে তাঁদের এবারের নির্বাচনী যাত্রায় নানা ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এর মধ্যেও সাধারণ মানুষ তাঁদের ওপর আস্থা রেখে ভোট দিয়েছেন মূলত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার প্রত্যাশা নিয়ে। জনগণের সেই গভীর প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন তাঁদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন। চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার জমি দখল এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি কড়া ভাষায় বলেন যে নির্বাচনে অংশ নেওয়া কোনো ব্যক্তি এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নন। বরং যারা জালিয়াতি ও ভুয়া দলিলপত্র তৈরি করে চরের জমি দখল করছে, তারাই এলাকায় বিশৃঙ্খলা, হানাহানি ও সংঘাত তৈরির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। উসকানিমূলক নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
প্রশাসনের প্রতি কঠোর নির্দেশ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশেষভাবে সতর্ক করে দেন যেন কোনো নিরপরাধ সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। তিনি জানান যে তাঁরা নিজেদের পক্ষ থেকে এমন কোনো বক্তব্য দেননি যা এলাকায় কোনো ধরনের উত্তেজনা বা সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখাটাই তাঁদের রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। বিএনপি এবং গণঅধিকার পরিষদের দায়িত্বশীল নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে এলাকার যেকোনো বিরোধ বা সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সমাধান করতে হবে। সব সমস্যার সমাধান যে কেবল প্রশাসন বা আদালতের মাধ্যমে হবে এমন নয়, বরং রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে মানুষের সামাজিক সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রে তাঁদেরও বড় ধরনের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন