রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬,

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা-কর্মীদের দেশে এসে মামলার বিচার ও সাজা মোকাবিলা করা উচিত: সেতুমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা-কর্মীদের দেশে এসে মামলার বিচার ও সাজা মোকাবিলা করা উচিত: সেতুমন্ত্রী

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা-কর্মীদের দেশে এসে মামলার বিচার ও সাজা মোকাবিলা করা উচিত: সেতুমন্ত্রী

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক ও পরোয়ানাভুক্ত নেতাকর্মীদের দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমেই অপরাধের বিচার সম্পন্ন হচ্ছে এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে স্থান পাওয়ার সুযোগ নেই। সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বেতকা ইউনিয়নে একটি সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। পরে তিনি দেশজুড়ে চলমান পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সমাবেশেও যোগ দেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পলাতক আসামিদের দেশে এসে নিজেদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও সাজা মোকাবিলা করার তাগিদ দেন এই মন্ত্রী।

ফ্যাসিবাদী সরকারের বিগত সাড়ে সতেরো বছরের বিভিন্ন অপকর্ম, দুর্নীতি, গণহত্যা ও ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন যে, এসব অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতরা এখন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন। ইতিমধ্যে অনেক মামলার আইনি প্রক্রিয়ায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে এবং বেশ কিছু অভিযোগের বিচার কার্যক্রম এখনো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা যদি সত্যিই নির্দোষ হন বা আইনি লড়াই করতে চান, তবে দেশেই থাকা উচিত ছিল এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেওয়া উচিত ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে বিচার বিভাগের রায়ের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ যথাযথভাবে কার্যকর করা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে মুন্সিগঞ্জ জেলার সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী জানান যে, সড়ক, রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সব চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই ধানের শীষের প্রার্থীরা জয়লাভ করায় এলাকার সাধারণ মানুষের প্রতি বর্তমান সরকারের আলাদা একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মুন্সিগঞ্জের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ যেকোনো যৌক্তিক দাবি পূরণে সরকার সবসময় আন্তরিক ও বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি। এ সময় দেশের সামগ্রিক সড়ক নেটওয়ার্ক ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ের সড়ক ১৮ ফুট এবং জেলা পর্যায়ের সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি মহাসড়কগুলোতে আলাদা সার্ভিস লেন রাখার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

উল্লেখ্য, ওইদিন বিকেলে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ডহুরী খালের ওপর প্রায় আটষট্টি কোটি টাকা ব্যয়ে কুন্ডেরবাজার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন শেখ রবিউল আলম। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে সেতুটি নির্মিত হচ্ছে এবং এটি সম্পন্ন হলে ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান ও পরবর্তী সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সমাবেশে বক্তারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।