নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা সফলভাবে মোকাবিলা করতে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইওমিং অঙ্গরাজ্যে একটি বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণের উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। এই মেগা প্রকল্পে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৭ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। উল্লেখ্য যে, ওয়াইওমিং রাজ্যে এটিই গুগলের প্রথম কোনো ডেটা সেন্টার প্রকল্প।
তবে বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণ ও স্থাপন নিয়ে রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিরোধিতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি দেশটির বিভিন্ন স্থানীয় অঞ্চলে অনুষ্ঠিত একচল্লিশটি ভোটাভুটির মধ্যে ঠিক চল্লিশটিতেই ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন সাধারণ ভোটাররা। এমন এক টানটান ও জটিল পরিস্থিতির মাঝেই রিপাবলিকান অধ্যুষিত ওয়াইওমিংয়ে বিশাল অঙ্কের এই বিনিয়োগের সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে গুগল।
প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য রিলেটেড ডিজিটাল, আমেরিকান ইলেকট্রিক পাওয়ার এবং ব্ল্যাক হিলস এনার্জির সঙ্গে যৌথভাবে পারস্পরিক সহযোগিতায় কাজ করবে গুগল। নতুন এই ডেটা সেন্টারের বিশাল বিদ্যুৎ চাহিদা নির্বিঘ্নে পূরণ করার জন্য ব্লুম এনার্জি প্রায় ৭০২ মেগাওয়াট ক্ষমতার অত্যাধুনিক ফুয়েল-সেল প্রযুক্তি সরবরাহ করবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া ঘিরে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পুরো প্রযুক্তি খাতেও। সম্ভাব্য স্থানীয় বিধিনিষেধ ও আইনি জটিলতার আশঙ্কায় সম্প্রতি টেক্সাসে এআই ক্লাউড সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এনস্কেলের সঙ্গে তাদের চুক্তি সম্প্রসারণের প্রস্তাবে সম্মতি জানায়নি মাইক্রোসফট।
এ ধরনের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও পরিচালনায় স্থানীয় পর্যায়ে কঠোর বিধিনিষেধ বা আইনি বাধা আরোপের আশঙ্কায় ইতোমধ্যে শেয়ারবাজারে ব্লুম এনার্জির শেয়ারের মূল্য চৌদ্দ শতাংশের বেশি কমে গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির টেকসই উন্নয়নের জন্য ডেটা সেন্টারগুলো বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার, পরিবেশগত নেতিবাচক প্রভাব এবং স্থানীয় সাধারণ জনগণের নানা উদ্বেগের কারণে এই ধরনের মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিনিয়ত ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন