শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬,
মহাকাশের বিরল দৃশ্য

মহাকাশের ক্ষুদ্র শিলা সাময়িক সময় পৃথিবীর চারপাশে প্রদক্ষিণ শুরু করেছে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম

মহাকাশের ক্ষুদ্র শিলা সাময়িক সময় পৃথিবীর চারপাশে প্রদক্ষিণ শুরু করেছে

মহাকাশে ভেসে থাকা নতুন একটি ক্ষুদ্র শিলা সাময়িকভাবে যুক্ত হয়েছে পৃথিবীর মহাকর্ষীয় বলয়ে। বিজ্ঞানীরা এই বস্তুর নাম দিয়েছেন ২০২৬ কিউকিউ৮ (2026 QQ8)। আকারে মাত্র ৬ ফুটের মতো চওড়া হওয়ায় বস্তুটিকে ‍‍`মিনি চাঁদ‍‍` বলে আখ্যা দেওয়া হলেও পৃথিবীর প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদের সাথে এর কোনো স্থায়ী সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে না। জ্যোতির্বিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, এই সাময়িক উপগ্রহটি চলতি বছরজুড়ে পৃথিবীর মহাকর্ষে আটকে থাকবে এবং আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে আবার গভীর মহাশূন্যে ফিরে যাবে।

আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়নের অধীনস্থ সংস্থা মাইনর প্ল্যানেট সেন্টার নিশ্চিত করেছে যে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এই শিলাটি পৃথিবীর মহাকর্ষীয় আকর্ষণের পরিধিতে প্রবেশ করে। পরবর্তী সময়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপ পর্যবেক্ষণ এবং মহাকাশ গবেষণার মাধ্যমে গত আগস্টে বিজ্ঞানীরা আনুষ্ঠানিকভাবে এর অবস্থান ও গতিপথ শনাক্ত করতে সক্ষম হন। গতিপথ বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে শিলাটির সময় লাগে ৩৫০ দিনের কিছু বেশি, যা পৃথিবীর নিজ কক্ষপথে এক বছরের প্রদক্ষিণকালের বেশ কাছাকাছি।

প্রায় প্রতি ১০ বছর পর পর এই গ্রহাণুটি পৃথিবীর মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের কাছাকাছি আসে। তবে এই যাত্রায় দূরত্ব অনেক কমে আসায় গ্রহের টানে সাময়িকভাবে আটকে পড়ে বস্তুটি।

পৃথিবীর খুব কাছে বললেও চাঁদের গড় দূরত্বের চেয়ে এটি বেশ দূরে অবস্থান করছে। সর্বনিম্ন অবস্থানের সময়ে ‍‍`২০২৬ কিউকিউ৮‍‍`-এর দূরত্ব ছিল প্রায় ৩ লাখ ৫৩ হাজার মাইল। স্বাভাবিক অবস্থায় পৃথিবীর আসল চাঁদ গড় ৩ লাখ ৮৪ হাজার কিলোমিটার বা আড়াই লাখ মাইলের কিছুটা বেশি দূরে থাকে, যার তুলনায় এই সাময়িক শিলাখণ্ডটি আরও প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মাইল দূরে অবস্থান নিয়ে প্রদক্ষিণ করছে।

এই বস্তু নিয়ে কোনো ধরনের বৈশ্বিক দুর্যোগ বা আশঙ্কার কারণ নেই বলে নিশ্চিত করেছেন মহাকাশ গবেষকরা।

প্রায় দুই মিটার ব্যাসের এই ক্ষুদ্র শিলা যদি গতিপথ বদলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশও করে, তবে ঘর্ষণজনিত তীব্র তাপে বায়ুমণ্ডলেই তা পুড়ে ধ্বংস হয়ে যাবে।

গবেষকদের কম্পিউটার সিমুলেশন মডেলিং থেকে দেখা গেছে, পৃথিবীর প্রভাবে একই সময়ে কয়েকটি প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম বস্তু এভাবে সাময়িক উপগ্রহ হিসেবে ঘুরতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে মূল চাঁদ থেকে অতীতে ছিটকে আসা পাথরও এমন অস্থায়ী উপগ্রহ হিসেবে আবির্ভূত হয়। সাধারণত গড়ে ৩০ ইঞ্চি আকারের শিলাখণ্ডগুলো নয় মাসের মতো প্রদক্ষিণ করে। ১০ ফুটের বেশি আকারের বড় শিলাগুলো বিশেষ পরিস্থিতিতে ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কক্ষপথে অবস্থান নিতে সক্ষম।

খালি চোখে অনাবিষ্কৃত থেকে গেলেও শক্তিশালী মহাকাশ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার সাহায্যে বিজ্ঞানীরা এই গবেষণা প্রক্রিয়া চালু রেখেছেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এ ধরনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ সৌরজগতের জন্ম রহস্য, ক্ষুদ্র গ্রহাণুর গতিপ্রকৃতি এবং মহাকর্ষের গতিশীলতা বুঝতে বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন দুয়ার খুলে দেয়।