নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
টেস্টোস্টেরনকে সাধারণত পুরুষদের প্রধান হরমোন হিসেবে বিবেচনা করা হলেও নারীদের শরীরেও এই হরমোন নির্দিষ্ট ও প্রয়োজনীয় মাত্রায় উপস্থিত থাকে। নারী ও পুরুষ উভয়ের শরীরেই মজবুত হাড়ের সুস্থতা, স্বাভাবিক যৌন আকাঙ্ক্ষা এবং নানা শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম সচল রাখার জন্য টেস্টোস্টেরন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে এই হরমোনের মাত্রা কমে গেলে হাড়ের স্বাস্থ্য দুর্বল হওয়া, যৌন আগ্রহ হ্রাস পাওয়া এবং নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চক্রে অনিয়মের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্থূলতা, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং থাইরয়েডের কার্যকারিতায় ত্রুটির কারণে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে। এর পাশাপাশি আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসও শরীরের হরমোনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। যদিও কিছু খাবার সরাসরি হরমোন বৃদ্ধি করে না, তবে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে হরমোনের স্বাভাবিক মাত্রা সচল রাখতে এগুলো দারুণভাবে সহায়তা করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও অস্বাস্থ্যকর ফাস্টফুড এড়িয়ে প্রদাহরোধী পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে সহায়ক খাবারগুলোর মধ্যে প্রথমে রয়েছে কুমড়ার বীজ। এটি জিংকের একটি চমৎকার প্রাকৃতিক উৎস, যা শরীরে টেস্টোস্টেরন তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মিশিগানের ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, জিংকের ঘাটতিতে ভোগা বয়স্ক ব্যক্তিদের নিয়মিত জিংক দেওয়ার ফলে তাদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
দ্বিতীয়ত, রান্নায় বহুল ব্যবহৃত আদা হরমোনের মাত্রা ঠিক রাখতে বেশ উপকারী। এতে জিংকসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে যা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া রক্তে শর্করার ভারসাম্য রক্ষা এবং রক্তপ্রবাহ উন্নত করার ক্ষেত্রেও আদার ভূমিকা রয়েছে।
তৃতীয়ত, ডালিমের রসে থাকা পলিফেনল নামের প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের অক্সিডেটিভ চাপ কমায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ডালিমের রস পানের সাথে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধির ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে।
চতুর্থত, দুধ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিনের পাশাপাশি বোরন নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ করে। বোরন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের সাথেও টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধির সম্পর্ক থাকতে পারে। যারা দুধের চর্বি এড়িয়ে চলতে চান, তারা মটর ও বিভিন্ন শাকসবজি থেকেও এটি পেতে পারেন।
পঞ্চমত, স্যামন মাছে রয়েছে ভিটামিন ডি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং সেলেনিয়ামের মতো পুষ্টি উপাদান। গবেষণায় দেখা গেছে, স্যামন মাছের তেল সাপ্লিমেন্ট হিসেবে গ্রহণকারীদের শরীরে হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। তবে সুস্থ হরমোনের জন্য কেবল নির্দিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শরীরচর্চা করা উচিত।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন