নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
ফরিদপুরে দশ বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের দায়ে আরিফুল ইসলাম নামের এক মসজিদের ইমামকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত আসামি আদালতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আরিফুল ইসলাম ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল গ্রামের পুরুরা গ্রামের মো. খবির মোল্যার ছেলে। তিনি নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং একই সঙ্গে মসজিদের মক্তবে স্থানীয় শিশুদের সকালে ধর্মীয় শিক্ষা দিতেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আরিফুল প্রতিদিন ভোরে ধর্মীয় শিক্ষার জন্য মসজিদের মাইকের মাধ্যমে শিশুদের ডেকে তুলতেন। তবে ঘটনার দিন গত ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর ভোরে বৃষ্টি হওয়ায় তিনি মাইকে ডাকেননি। এর মধ্যে ভুক্তভোগী শিশুটি একা মসজিদে চলে যায়। শিশুটিকে একা পেয়ে ইমাম আরিফুল তার পা টিপতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে গোপনাঙ্গ ধরিয়ে বিকৃত আচরণ করেন। এছাড়া শিশুটির পরিহিত প্যান্ট খুলে বলাৎকারের চেষ্টা চালানো হয়। সেই মুহূর্তে শিশুটি কোনোমতে কৌশলে দরজা খুলে দৌড়ে বাইরে পালিয়ে আসে এবং বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের পুরো ঘটনাটি খুলে বলে।
এমন চাঞ্চল্যকর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে মসজিদে গিয়ে অভিযুক্ত আরিফুল ইসলামকে আটক করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরবর্তীতে নগরকান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ওইদিনই নগরকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শিশুটির মা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষে ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন জানান যে আসামি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আজ এই রায় প্রদান করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন