নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত ও সমালোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণিকে ঘিরে চলা বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ নেই। আদালত প্রাঙ্গণে সংবাদকর্মীকে হেনস্তা ও গালমন্দের অভিযোগের জেরে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন এক স্ট্যাটাস দিয়ে ফের আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তাকে বয়কটের ঘোষণা দেওয়ার পর ফেসবুকে সেই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে একটি পোস্ট দেন তিনি। তবে পোস্টটি প্রকাশের কিছুক্ষণ পরেই তা আবার তার অ্যাকাউন্ট থেকে মুছে ফেলেন।
গত রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পরীমণি এক পোস্টে লেখেন, এদের এ কেমন বয়কটের ধরন! বয়কট ঘোষণা করে আমারে ফ্রেন্ডলিস্টে রাইখা দিছে। তার এই স্ট্যাটাসটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে তিনি পোস্টটি প্রোফাইল থেকে সরিয়ে নিলেও ততক্ষণে তার স্ক্রিনশট বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে গত ৫ নভেম্বর ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পান পরীমণি। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংবাদকর্মীদের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধ্বস্তির ঘটনা ঘটে। ওই সময় এক সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে শারীরিক হেনস্তা বা ব্যাড টাচের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন পরীমণি। এ সময় ওই সাংবাদিককে হেনস্তা এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগও ওঠে এই নায়িকা ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।
এই অপ্রীতিকর ঘটনার পর পরীমণির এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানায় দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন। মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, এমআরইউ, ডিআরএফ ও ইয়ুথ জার্নালসহ একাধিক সংগঠন তার সঙ্গে পেশাগতভাবে সব ধরনের অসহযোগিতা ও আনুষ্ঠানিক বয়কটের ঘোষণা দেয়।
সাংবাদিকদের এই প্রতিবাদের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে শোবিজ অঙ্গনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও। সম্প্রতি চট্টগ্রামে আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম ফ্যাশন ভ্যানগার্ড অ্যাওয়ার্ড’ নামের একটি শোবিজের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বা বিশেষ অতিথি হিসেবে তার থাকার কথা থাকলেও, প্রতিবাদের মুখে তাকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অতিথি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর আগে গত শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই অনুষ্ঠানের একটি পোস্টার শেয়ার করে ‘দেখা হচ্ছে প্রিয় চট্টগ্রাম’ ক্যাপশন দিয়েছিলেন তিনি। তবে পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে আয়োজকেরা বাধ্য হয়ে তার নাম বাদ দেন। অনুষ্ঠানটির মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর খালেদ সুমন গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পরীমনির এই সাম্প্রতিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ধারাবাহিক পোস্ট নিয়ে বর্তমানে সাধারণ মানুষ ও ভক্তদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষের মতে, শিল্পীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষা করা জরুরি হলেও সংবাদকর্মীদের সঙ্গে এ ধরনের অপমানজনক ও আক্রমণাত্মক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে পরীমণির পক্ষের লোকজনের দাবি, একজন নারীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং আদালত প্রাঙ্গণে উপচে পড়া ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি এখানে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত।
সব মিলিয়ে সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ, পেশাদার সংগঠনগুলোর বয়কটের ডাক, ফ্যাশন শো থেকে নাম বাদ পড়া এবং সবশেষে ফেসবুকের সেই রহস্যময় স্ট্যাটাস ও তা মুছে ফেলা—সব মিলিয়ে ঢাকাই সিনেমার এই জনপ্রিয় নায়িকাকে কেন্দ্র করে নতুন করে চরম উত্তাপের সৃষ্টি হয়েছে বিনোদন অঙ্গনে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন