নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
সরকারি শিক্ষকদের মতো একই হারে নতুন পে-স্কেল পেতে যাচ্ছেন দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। আগামী কিছু দিনের মধ্যেই তারা এই নতুন পে-স্কেলের আওতায় আসবেন বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে সরকার শিক্ষা খাতে সর্বাধিক বাজেট বরাদ্দ প্রদান করেছে। এরই মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এতদিন কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন। শিক্ষকদের এই দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করে সরকারি শিক্ষকদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তাদেরও একই হারে নতুন পে-স্কেল প্রদান করা হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শিক্ষার সার্বিক মান উন্নয়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সৃজনশীল চিন্তা ও আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সামগ্রিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই শিক্ষা খাতের আধুনিকায়নে কাজ করা হচ্ছে।
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থাকে একটি গ্লোবাল ভিলেজ বা বৈশ্বিক গ্রাম হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সম্প্রতি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ দুই শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশ থেকে তিনশো সাতচল্লিশ জন গবেষক ও বিজ্ঞানী স্থান পেয়েছেন। দেশের এই কৃতি বিজ্ঞানীদের সম্মান জানাতে এবং তাদের নিয়ে বিশেষ একটি আয়োজনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
গবেষণার মান ও সততার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে মন্ত্রী বলেন, গবেষণা, লেখালেখি ও রিসার্চ পেপারের মাধ্যমে যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন, সরকার তাদের নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। তবে গবেষণার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্লেজিয়ারিজম বা অন্যের লেখা ও গবেষণা নকল করার প্রবণতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষকতার পাশাপাশি সবাইকে নিয়মিত গবেষণামূলক কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে হবে। পরবর্তীতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্যও মনোযোগ দিতে হবে। তবে শুরুর দিকেই নয়, বরং লেকচারার হিসেবে নিজ দায়িত্ব সফলভাবে পালনের পর অধ্যাপক হওয়ার পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে গবেষণায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
এ সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করে গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করা যাবে না। শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রত্যেককে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন