রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬,
গুরুত্বপূর্ণ জিকির ও আমল

সকাল-সন্ধ্যায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ জিকির ও আমল করবেন মুমিনরা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম

সকাল-সন্ধ্যায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ জিকির ও আমল করবেন মুমিনরা

সারা দিনের ব্যস্ততা আর ক্লান্তি পেরিয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে যেমন সন্ধ্যা নেমে আসে, তেমনি আরেকটি নতুন দিনের সোনালী সূচনা হয় ভোরের আলোয়। মুমিনের জীবনে সকাল ও সন্ধ্যার নির্দিষ্ট কিছু জিকির ও দোয়া আত্মিক প্রশান্তি অর্জনের পাশাপাশি মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সকাল ও সন্ধ্যায় এমন কিছু বিশেষ জিকির ও দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, যা নিয়মিত পাঠ করলে সারা দিনের নিরাপত্তা ও বরকত লাভের পাশাপাশি আখিরাতের কঠিন সময়েও তা মুক্তির মাধ্যম হবে। মাগরিবের নামাজের পর এবং ফজর পরবর্তী সময়ে বরকতময় এসব আমলের মাধ্যমে একজন মুমিন তার দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন সুরক্ষিত করতে পারেন। সকাল ও সন্ধ্যার তেমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিকির ও আমল নিচে তুলে ধরা হলো—

১. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া):
আল্লাহুম্মা আন্তা রব্বি লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা, খালাকতানি ওয়া আনা আব্দুকা, ওয়া আনা আলা আহ্দিকা, ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাতাতু, আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু, আবুউ লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা, ওয়া আবুউ বিজাম্বি, ফাগফিরলি; ফাইন্নাহু লা ইয়াগفیرুজ জুনুবা ইল্লা আন্তা।
এর অর্থ হলো—হে আল্লাহ! আপনিই আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনারই বান্দা। আমি আমার সাধ্যানুযায়ী আপনার সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর কায়েম আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। আমার ওপর আপনার যে নিয়ামত রয়েছে, তা আমি স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দিন। কেননা, আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকালে বা সন্ধ্যায় এই সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার পাঠ করবে এবং ওই দিন বা রাতে তার ইন্তেকাল হয়, তবে সে জান্নাত লাভ করবে।

২. সকল অনিষ্ট থেকে বাঁচার দোয়া:
বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস্সামাই ওয়া হুয়াসসামিউল আলিম।
এর অর্থ—আল্লাহর নামে, যার নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সবকিছু শোনেন ও জানেন। সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়াটি পাঠ করলে আসমান ও জমিনের কোনো অনিষ্ট বা বিপদ তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

৩. সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির তাসবিহ পাঠ:
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি।
এর অর্থ হলো—আল্লাহ পবিত্র এবং সকল প্রশংসা কেবল তারই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি এই জিকির সকালে ও সন্ধ্যায় একশো বার পড়বে, কিয়ামতের দিন তার চেয়ে উত্তম আমল আর কেউ আনতে পারবে না।

৪. আয়াতুল কুরসি পাঠ:
আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম, লা তাখুযুহু সিনাতুউ ওয়ালা নাওম, লাহু মা ফিসসামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ, মান জাল্লাজি ইয়াশফাউ ইংদাহু ইল্লা বিইজনিহি, ইয়ালামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম, ওয়া লা ইউহিতুনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ, ওয়াসিআ কুরসিইয়ুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা, ওয়া হুওয়াল আলিয়্যুল আজিম।
অর্থ হলো—আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক। তাকে কোনো তন্দ্রা বা ঘুম স্পর্শ করতে পারে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, সব তাঁরই মালিকানাধীন। তার অনুমতি ছাড়া তার কাছে সুপারিশ করার কেউ নেই। তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তা তিনি ভালোভাবেই জানেন। আর তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন, ততটুকু ছাড়া তার জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না। তার কুরসি আসমান ও জমিনময় পরিব্যাপ্ত। সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ তাকে ক্লান্ত করে না। আর তিনি সুমহান ও সর্বশ্রেষ্ঠ।
প্রতি ফরজ নামাজের পর এবং সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি। এটি পাঠকারীকে জান্নাতে যাওয়ার পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকে না এবং এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সুরক্ষা দেয়।

৫. আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার বিশেষ দোয়া:
রাদিতু বিল্লাহি রব্বাও ওয়া বিল ইসলামি দিনাও, ওয়া বি-মুহাম্মাদিন নাবিয়্যান।
এর অর্থ—আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা তিনবার এই দোয়া পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে সন্তুষ্ট করবেন।

৬. জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া:
আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার।
এর অর্থ হলো—হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ফজর ও মাগরিবের পর কারও সঙ্গে কথাবার্তা না বলে সাতবার এই দোয়াটি পাঠ করে এবং ওই দিনে বা রাতে তার মৃত্যু হয়, তবে সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে।

৭. সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ:
সকাল ও সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস—প্রতিটি তিনবার করে পাঠ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সকাল-সন্ধ্যা এই সুরাগুলো তিনবার পাঠ করলে সকল প্রকার অনিষ্টতা ও বিপদাপদ থেকে হেফাজতের জন্য তা যথেষ্ট হবে।

৮. সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ:
মাগরিবের পর আউজুবিল্লাহিস সামিয়িল আলিমি মিনাশ শাইতানির রজিম তিনবার পড়ে সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত একবার পাঠ করা। হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি এই আমল করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য সত্তর হাজার রহমতের ফেরেশতা নিযুক্ত করবেন, যারা সকাল পর্যন্ত তার জন্য রহমতের দোয়া করতে থাকবে এবং সেদিন রাতে মারা গেলে শহীদের মৃত্যু নসিব হবে।